ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি-মন্ত্রীদের ঐতিহাসিক শপথ আজ 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৩৬, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ০৮:৩৭, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এমপি-মন্ত্রীদের ঐতিহাসিক শপথ আজ 

বঙ্গভবনের দরবার হলের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আজ নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন, আর বিকালে শপথ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে নতুন সরকারের পথচলা।

আরো পড়ুন:

সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা বা দুপুর ১২টার দিকে সংসদীয় দলের সভায় নেতা নির্বাচন করবে বিজয়ী দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

বিএনপির অনুরোধ ও রাজনৈতিক তাৎপর্য বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় এই আয়োজন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের বিদায়ী আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, শপথগ্রহণের সময়সূচি অনুযায়ী সব কার্যক্রম সাজানো হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানে বিদেশি অতিথি আমন্ত্রণ প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।” 

সংসদ সূত্র জানায়, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণের আলাদা ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাওয়া বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগেই ঘোষণা দিয়েছেন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উন্মুক্ত আয়োজন। বদ্ধ কক্ষের পরিবর্তে উন্মুক্ত স্থানে শপথ নেওয়ার মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি থেকে দায়বদ্ধতার নতুন বার্তা দিতে চান তিনি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “বিশ্বের বহু দেশেই এখন এ ধরনের উন্মুক্ত শপথ অনুষ্ঠান হচ্ছে। দীর্ঘদিন গণতন্ত্র অবরুদ্ধ থাকা দেশগুলোতে জনগণের সামনে শপথ নেওয়া স্বাধীনতা ও জবাবদিহির প্রতীক হয়ে উঠছে।” 

তিনি আরো বলেন, “অতীতে নির্বাচন, শপথ বা মন্ত্রিপরিষদ গঠনের প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ দৃশ্যমান ছিল না। মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। একই সঙ্গে তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন এবং দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।” 

মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হবে তা নিয়ে জনমনে ব্যাপক কৌতূহল। দলীয় সূত্র জানায়, নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ মন্ত্রিসভা গঠনের চিন্তা চলছে।

বর্তমানে সরকারের ৩টি মন্ত্রণালয় কমিয়ে ৩০টিতে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। দলটির দায়িত্বশীলদের মতে, ছোট মন্ত্রিসভা হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরো কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় যাদের নাম আলোচনায়

বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সালাহউদ্দিন আহমদ, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং দলের ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু।

এছাড়া, আলোচনায় আছেন এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, দেওয়ান সালাহ উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং রকিবুল ইসলাম বকুল।

এছাড়া, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, এবং রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজনের নামও আলোচনায় এসেছে। 

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর এবং জিয়া হায়দার। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী-খান সোহেল–এর নামও মন্ত্রিসভা আলোচনায় রয়েছে।

জোট ও প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব
বিএনপি জোট শরিকদের মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর এবং ববি হাজ্জাজ এর নাম শোনা যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীসংশ্লিষ্ট বড় কোনো দায়িত্বে যেতে পারেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন ও প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।

সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় বিএনপির শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি নতুন মুখ, টেকনোক্র্যাট এবং জোট শরিকদের প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। 

মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন এমন প্রশ্নে বিএনপির শীর্ষ এক নেতা বলেন, “কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সব স্পষ্ট হয়ে যাবে। এ জন্য একটু ধৈর্য ধরাই ভালো।”

ঢাকা/এএএম/ইভা 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়