ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির কর্মীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:০০, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৩:১২, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
টুঙ্গিপাড়ায় বিএনপির কর্মীসহ ৫ জনকে কুপিয়ে-পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন দেলোয়ার শেখ (সামনের বিছানায়)।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিএনপির এক কর্মীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামী ও শিবিরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) রাতে উপজেলার সরদারপাড়া গ্রামে তাদের ওপর হামলা হয়। 

হামলায় আহত দেলোয়ার শেখ (৩৮) বিএনপি কর্মী। তার স্ত্রী আমেনা বেগম (২৬) ও ভাতিজা কাউসার শেখসহ পাঁচজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। 

আরো পড়ুন:

প্রধান দুই অভিযুক্ত জিয়ারুল মোল্লা (২৮) জামায়াতে ইসলামীর কর্মী ও দিন ইসলাম মোল্লা (২৫) শিবির কর্মী বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। 

চিকিৎসাধীন বিএনপি কর্মী দেলোয়ার শেখের অভিযোগ, “সরদারপাড়া গ্রামের সিদ্দিক মোল্লার ছেলে জিয়ারুল ও জামসেদ মোল্লার দুই ছেলে নুর ইসলাম ও দ্বীন ইসলাম  শিবিরের রাজনীতি করেন। আমরা বিএনপির রাজনীতি করি। নির্বাচনের আগে ওদের বাড়িতে একাধিকবার ভোট চাইতে গেলে তারা নানা ধরনের খারাপ কথা বলে ও ভোট না চাইতে আসার জন্য হুমকি দেয়। তারপর থেকে আমাদের দেখলেই খারাপ কথা বলে।”

তিনি বলেন, “রবিবার বিকালে রাস্তায় গেলে জিয়ারুল, দ্বীন ইসলামসহ সিদ্দিক মোল্লার আরো তিন ছেলে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে। মাথায় কোপ দেয় তারা। তখন আমার স্ত্রী, ভাতিজা ও বেড়াতে আসা মেহমান ঠেকাতে আসলে তাদের ওপর হামলা করে। চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। আমরা তাদের কঠোর বিচার চাই।”

আহত দেলোয়ারের স্ত্রী আমেনা বেগম বলেন, “আমরা বিএনপি করি এজন্য জামায়াতের লোকজন আমার স্বামীকে কুপিয়ে আহত করেছে। আমরা ঠেকাতে গেলে আমাদের উপরও হামলা করে তারা। এবারের সংসদ নির্বাচনে তারা জামায়াতের এজেন্ট ছিল। আমরা তাদের কঠোর বিচার চাই।”

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত জিয়ারুল মোল্লা ও দ্বীন ইসলাম মোল্লার বাড়িতে গেলে তাদের পাওয়া যায়নি। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তারা কল রিসিভ করেননি।

গোপালগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে তা ঠিক নয়। অভিযুক্তরা জামায়াত-শিবিরের কর্মী নয়। এ ঘটনার সঙ্গে জামায়াতে-শিবিরের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান বলেন, “ঘটনাটি আমরা জানা নেই। আমি মাত্র জানতে পারলাম। খোঁজ নেওয়া হবে।”

টুঙ্গিপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আইয়ুব আলী বলেন, “ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/বাদল/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়