ঢাকা     রোববার   ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ২ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

দেশ ছাড়ার কারণ জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

নিউজ ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:১৭, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১০:১৮, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশ ছাড়ার কারণ জানালেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ফাইল ফটো

নির্বাচন শেষে দেশ ছেড়েছেন প্রধান উপদেষ্টার আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। 

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন। 

আরো পড়ুন:

তিনি লেখেন, “ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনি আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্ম দিবস ছিল। সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।” 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে কটু মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি লেখেন, “একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নিবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না।”

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিদায়ের সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।”

পরিবারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। আরো একটা তথ্য দেই, রিটার্ন টিকেট কেটে এসেছি।”

তিনি বলেন, “একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।”

পোস্টে আরো বলা হয়, দীর্ঘ ক্লান্তির পর কিছুটা বিশ্রামের প্রয়োজন রয়েছে এবং উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ার পরিকল্পনা আছে তাঁর। একই সঙ্গে নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাতের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

পুনশ্চ অংশে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সব গুলা পুরানা আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলা প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোন পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই বাছাই করে নিয়েন।”

তিনি বলেন, “আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারসি এটা নিতে পারিনা। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুতসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথা নত করিনি।"

“দ্রুত একটা চাকরি খুজবো। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্ত করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ  সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে। আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি,” বলেন তিনি। 

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়