ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত কোরবানির পশু যেমন হতে হবে
মুফতি আতাউর রহমান || রাইজিংবিডি.কম
কোরবানি একটি ইবাদত। ইবাদতের মূলনীতি হলো তা ইসলামী শরিয়ত নির্ধারিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে হয়। সুতরাং কোরবানিও শরিয়তের নির্ধারিত শর্ত মেনেই আদায় করতে হবে। শরিয়ত কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্যের শর্তারোপ করেছে।
কোরবানির পশুর প্রজাতি ও বয়স
উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। এসব পশু ছাড়া অন্য পশু দিয়ে কোরবানি করা জায়েজ নেই। যেমন হরিণ, বন্য গরু ও মহিষ, হাঁস-মুরগি বা অন্য কোনো পাখি। যেসব পশু কোরবানি করা জায়েজ সেগুলোর নর-মাদা উভয়টি দ্বারা কোরবানি করা যায়। (ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৮; বাদায়িউস সানায়ি : ৪/২০৫)
কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য উল্লিখিত পশুগুলো নির্ধারিত বয়সী হওয়া আবশ্যক। উট কমপক্ষে পাঁচ বছর, গরু ও মহিষ কমপক্ষে দুই বছর, ছাগল-ভেড়া-দুম্বা কমপক্ষে এক বছর বয়সী হতে হবে। তবে ভেড়া ও দুম্বা যদি এক বছরের কিছু কম হয়, কিন্তু এমন হৃষ্টপুষ্ট হয় যে, দেখতে এক বছরের মতো মনে হয় তাহলে তা দ্বারাও কোরবানি করা জায়েজ। অবশ্য এক্ষেত্রে কমপক্ষে ছয় মাস বয়সের হতে হবে। (ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৮)
যেসব ত্রুটির কারণে কোরবানি হয় না
কোরবানির পশু হৃষ্টপুষ্ট, মধ্যম বয়সী ও দৃষ্টিনন্দন হওয়া উত্তম। রোগাক্রান্ত ও ত্রুটিপূর্ণ পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নেই। যেসব পশু দ্বারা কোরবানি করা বৈধ নয়, তা নিম্নরূপ :
১. এমন শীর্ণকায় দুর্বল পশু, যা জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না।
২. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে, ঘাস বা খাদ্য চিবিয়ে খেতে পারে না।
৩. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে অথবা শিং একেবারে ওঠেনি সে পশু কোরবানি করা জায়েজ।
৪. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা। যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার দ্বারা কোরবানি জায়েজ। জন্মগতভাবে যদি কান ছোট হয় তাহলে কোনো অসুবিধা নেই।
৫. যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা এক চোখ পুরো নষ্ট।
৬. যে পশু তিন পায়ে চলে, এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা ভর করতে পারে না।
৭. বন্ধ্যা পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ। যদি তার ভেতর অন্য কোনো ত্রুটি না থাকে। (মুসনাদে আহমদ : ৬/১৩৬; ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি : ৫/৩০০, বাদায়িউস সানায়ি : ৪/২২৩)
কোরবানির নিয়তে ভালো পশু কেনার পর যদি তাতে এমন কোনো ত্রুটি দেখা দেয় যার কারণে কোরবানি করা জায়েজ হয় না। এমন অবস্থায় ওই পশু দ্বারা কোরবানি করা সহিহ হবে না। তার স্থলে আরেকটি পশু কোরবানি করতে হবে। তবে ক্রেতা গরিব হলে ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারাই কোরবানি করতে পারবে। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া : ৪/৩১৯; বাদায়িউস সানায়ি : ৪/২১৬)
শরিকে কোরবানি করার নিয়ম
ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা দ্বারা শুধু একজনই কোরবানি করতে পারবে। উট, গরু ও মহিষে সর্বোচ্চ সাত জন শরিক হতে পারবে। সাতের অধিক শরীক হলে কারো কোরবানি শুদ্ধ হবে না। সাতজনে মিলে কোরবানি করলে সবার অংশ সমান হতে হবে। কারো অংশ এক সপ্তমাংশের কম হবে না। যেমন কারো আধা ভাগ, কারো দেড় ভাগ। এমন হলে কোনো শরিকের কোরবানি সহিহ হবে না। উট, গরু ও মহিষ সাত ভাগে এবং সাতের কম যে কোনো যেমন দুই, তিন, চার, পাঁচ ও ছয় ভাগে কোরবানি করা জায়েজ। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৩১৮; বাদায়িউস সানায়ি : ৪/২০৭-২০৮)
শরিকে কোরবানি করলে ওজন করে গোশত বণ্টন করা আবশ্যক। অনুমান করে তা ভাগ করা জায়েজ নেই। (আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩১৭; ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৫১)
লেখক : তরুণ আলেম ও মুহাদ্দিস
ঢাকা/শাহেদ
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসের জবাব দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী