খুলনার কামারশালায় চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা
নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা || রাইজিংবিডি.কম
খুলনার কামারশালায় চলছে কোরবানির পশুর মাংস কাটার বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম তৈরির কাজ।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে খুলনার কামারশালায় চলছে পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম তৈরির কাজ। শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততায় এখন কামারদের দম ফেলার ফুসরত নেই। অনেকেই তাদের কাছে পুরাতন সরঞ্জাম শান দিতে নিয়ে আসছেন।
কামারদের অভিযোগ, গতবারের তুলনায় এ বছর লোহা ও কয়লার দাম কিছুটা বেড়েছে। এ কারণে লাভ কম হচ্ছে। পর্যাপ্ত কাজের চাপ থাকলেও নতুন প্রজন্মের অনেকেই এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় আসতে আগ্রহী হচ্ছে না।
নগরীর বড়বাজার, নিউমার্কেট, গল্লামারি ও টুটপাড়া জোড়াকল বাজারসহ বিভিন্ন উপজেলার হাটে-বাজার এখন টুং টাং শব্দে মুখরিত হচ্ছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কাটাকাটির দা, বঁটি, ছুরি, চাকু ও চাপাতিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তৈরিতে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন কামাররা।
সরেজমিনে দেখা যায়, জ্বলন্ত কয়লার আগুনে লোহাকে পুড়িয়ে পিটিয়ে তৈরি করা হচ্ছে নানা ধরনের ধারালো সরঞ্জাম। আগুনের তাপে লাল হয়ে ওঠা লোহাকে হাতুড়ির আঘাতে আকার দিচ্ছেন কারিগররা, আর চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে লোহার টুং টাং শব্দ, যা ঈদের আগমনী বার্তা দিচ্ছে।
বটিয়াঘাটা বাজারের কর্মকার কালিপদ বলেন, “আমরা স্পিং ও লোহা ব্যবহার করে দা, বটি ও ছুরি তৈরি করছি। স্পিংলোহা দিয়ে তৈরি জিনিসের দাম বেশি। দা এর দাম কেজি হিসেবে ১১০ টাকা দরে ৭৫০ টাকা, ছুরির দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বটি ৩৫০ টাকা। বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের মানুষ এসে এসব তৈরি করিয়ে নিয়ে থাকেন। এখন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাজ অনেকটা বেড়েছে।”
উপজেলার খুটিরহাটে কামার ঘরে আসা সাবেক ইউপি সদস্য আলঙ্গীর হালদার জানান, “গরু কোরবানি দিতে এবং মাংস প্রস্তুত করতে বটি, চুরি, কুড়াল-চাপাতির প্রয়োজন হয়। তাই সেগুলো তৈরি করতে এসেছি। সব কিছুরই দাম বেড়েছে। তারপরেও প্রয়োজন তাই বানিয়ে নিচ্ছি।”
ঢাকা/নূরুজ্জামান/মাসুদ
জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের দুঃসাহসের জবাব দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী