ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

ঝালকাঠিতে ব্যবসা হারিয়ে কুল চাষে বছরে আয় ১২ লাখ টাকা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:২৭, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ঝালকাঠিতে ব্যবসা হারিয়ে কুল চাষে বছরে আয় ১২ লাখ টাকা

নিজের কুলবাগানে ইছমে আজম

ঝালকাঠির সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের রূপোসিয়া গ্রামের ইছমে আজম ব্যবসা হারিয়ে কুল চাষ করে ভাগ্য বদলেছেন। পাঁচ বিঘা জমিতে শতাধিক থাই জাতের আপেলকুল ও বনসুন্দরীকুল গাছ রোপণ করে বছরে আয় করছেন প্রায় ১২ লাখ টাকা।

এক সময়ের ব্যবসায়ীর ব্যবসা হারিয়ে কুষ চাষে এমন সাফল্য সারা ফেলেছে এলাকায়। তার এ সাফল্য দেখে অন্যরাও ঝুঁকছেন কুল চাষে।

আরো পড়ুন:

রূপোসিয়া গ্রামের ইছমে আজমের এক সময় ঢাকায় ছোট্ট একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল। ২০১৯ সালে মহামারি করোনার ছোবলে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে বেকার হয়ে পড়েন ইছমে আজম। বেকারত্ব থেকে মুক্তি পেতে কৃষি ক্ষেত্রে কিছু করা যায় কিনা ভাবতে থাকেন তিনি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ করেন এবং তার পরামর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে নেমে পড়েন কৃষিকাজে। নিজেদের পর্যাপ্ত জমি না থাকায় বিআইডব্লিউটি’র ১০ বিঘা জমি ইজারা নেন তিনি। বাড়ির পাশে ইজারা নেওয়া সেই জমিতে শুরু করেন কুল ও পেয়ারা চাষ। ৫ বিঘা জমিতে পেয়ারা এবং ৫ বিঘা জমিতে কুল চাষ করেন। কিন্তু, পেয়ারা চাষে সুবিধা করতে না পারলেও কুল চাষে ভাগ্য ফিরেছে তার। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি কুল চাষ করে লাভবান হন। 

ইছমে আজম বলেন,তিনি প্রথমে যশোর থেকে থাই জাতের আপেলকুল ও বনসুন্দরীকুল গাছের শতাধিক চারা সংগ্রহ করেন। চারা রোপণের ৮ মাস পরে গাছে কুল ধরে। প্রথম বছর প্রতিটি কুল গাছে ২০ থেকে ৪০ কেজি কুলের ফলন হয়। এবছর প্রতিটি গাছে প্রায় তিন মণ করে কুলের ফলন হয়েছে। আকার, স্বাদে ভালো হওয়ায় বাজারে চাহিদাও বেশ। প্রথমে ১২০ টাকা কেজি করে বাজারে বিক্রি শুরু করেন। এখন বিক্রি করছেন ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। তাতে কুল বিক্রি করে এ বছর ১২ লাখের বেশি টাকা আয় করবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি আরো জানান, চারা রোপণের পরে তেমন কোনো খরচ নাই। শুধু পরিচর্যা করতে হয়। তাতে কিছু শ্রম খরচ প্রয়োজন। খেত থেকে এলাকাবাসী কুল কিনে নিচ্ছেন। খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে জেলার বিভিন্ন বাজার বিক্রি করেন। তার খেতের কুল এলাকার চাহিদা পূরণ করে ঝালকাঠি থেকে লঞ্চ যোগে ঢাকায়ও পাঠানো হয়। তিনি ৮/১০ জন শ্রমিক নিয়ে পুরো বাগানের পরিচর্যা করেন।

তার সাফল্য দেখে এলাকার কয়েকজন বেকার যুবক শুরু করেছেন কুল চাষ। তাদের বাগানে আগামী বছর থেকে কুল উৎপাদন শুরু হবে। কেউ থাই জাতের আপেলকুল ও বনসুন্দরীকুল চাষ করতে চাইলে যশোর থেকে অথবা তার কাছ থেকেও চারা সংগ্রহ করতে পারবেন। 

ঝালকাঠি জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ইছমে আজম ব্যবসা হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছিল। আমাদের পরামর্শে কুলবাগান করে সে এখন স্বাবলম্বী। কোনো ধরনের রাসায়নিক সার বা কিটনাশকের ব্যবহার না করেই সে ভালো আকার ও স্বাদের কুল পাচ্ছে। এ কারণে বাজারে তার কুলের চাহিদা বেশি।

ঢাকা/অলোক/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়