সাতশোর শিখরে রশিদ: ঘূর্ণির জাদুতে নতুন বিশ্বরেকর্ড
ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম
ক্রিকেট ইতিহাসে কিছু মাইলফলক থাকে, যেগুলো শুধু সংখ্যা নয়; একটি যুগের পরিচয় হয়ে ওঠে। আফগানিস্তানের তারকা ঘূর্ণি বোলার রশিদ খান তেমনই এক কীর্তি গড়ে পৌঁছে গেলেন ৭০০ উইকেটের অবিশ্বাস্য উচ্চতায়। স্বীকৃত কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এই সংখ্যায় পৌঁছানো প্রথম বোলার এখন তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত আসে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে রশিদকে। প্রথম তিন ওভারে উইকেটশূন্য থাকার পর নিজের শেষ ওভারে ভাগ্য খুলে যায়। ইনিংসের ষোড়শ ওভারের তৃতীয় বলে মোহাম্মদ আরফান রিভার্স সুইপের চেষ্টা করেন। বল ঠিকমতো ব্যাটে না লাগিয়ে উল্টো নিজের স্টাম্পে আঘাত করেন তিনি। ফল- হিট উইকেট। আর সেই ঘটনাতেই ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচিত হয়।
পাঁচ শতাধিক ম্যাচের অধ্যবসায়:
রশিদের এই সাতশো উইকেট এসেছে ৫১৮ ম্যাচের দীর্ঘ পথচলায়। ৫১৩ ইনিংসে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। ধারাবাহিকতা, নিয়ন্ত্রণ আর বৈচিত্র্যময় ঘূর্ণির সমন্বয়ে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে এক অনন্য অবস্থান গড়ে তুলেছেন। তার সেরা বোলিং পরিসংখ্যান ১৭ রানে ৬ উইকেট। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যা এক বিরল সাফল্য।
ডানহাতি-বাঁহাতি সবার জন্য সমান ভয়:
রশিদের শিকার তালিকায় রয়েছে ৪৮৪ জন ডানহাতি এবং ২১৬ জন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ক্যাচ আউট করিয়েছেন ২৭৭ বার। আর সরাসরি বোল্ড করেছেন ২২৫ জনকে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয় তার ঘূর্ণি শুধু বিভ্রান্তই করে না, ব্যাটসম্যানদের ভুল করতে বাধ্য করে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান:
স্বীকৃত কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ৬০০ এর বেশি উইকেট রয়েছে কেবল দুজনের- ডোয়াইন ব্রাভো ও সুনীল নারিন। ব্রাভো ইতোমধ্যে অবসর নিয়েছেন। নারিনের সামনে এখনও সুযোগ থাকলেও সাতশোর চূড়ায় পৌঁছানো সহজ হবে না। রশিদের ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘ সময় ধরে শীর্ষে থাকার সামর্থ্যই তাকে আলাদা করে তুলেছে।
আফগানিস্তানের গর্ব:
রশিদ খান শুধু ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েননি, আফগানিস্তান ক্রিকেটের জন্যও এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত এক দেশ থেকে উঠে এসে বিশ্ব ক্রিকেটের শিখরে জায়গা করে নেওয়া তার গল্প প্রেরণার উৎস।
সাতশো উইকেটের এই সাফল্য প্রমাণ করে, প্রতিভা আর অধ্যবসায় মিললে সীমান্ত ভেদ করে ইতিহাস লেখা যায়। রশিদ খানের ঘূর্ণি এখন শুধু ব্যাটসম্যানদের নয়, রেকর্ড বইকেও ঘুরিয়ে দিচ্ছে।
ঢাকা/আমিনুল