ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

বৃদ্ধা মায়ের কাছে ফিরতে চান ৪ দশক আগে পাকিস্তানে পাচার হওয়া রাজিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:২৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৫:৪১, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বৃদ্ধা মায়ের কাছে ফিরতে চান ৪ দশক আগে পাকিস্তানে পাচার হওয়া রাজিয়া

রাজিয়া বিবি

বাংলাদেশ থেকে কয়েক দশক আগে পাকিস্তানে পাচার হওয়া রাজিয়া বিবি নামের এক নারী তার পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের জন্য পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের বিচ্ছেদ ঘুচিয়ে প্রিয়জনদের কাছে ফেরার জন্য তিনি এই আবেদন জানান।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও টিভি।

আরো পড়ুন:

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজিয়া বিবি পাঞ্জাবের কাসুর জেলার পাত্তোকি শহরের নিকটস্থ একটি গ্রামে বসবাস করেন। তিনি জানান, মা এবং ভাইবোনদের থেকে দূরে থাকার যন্ত্রণা তার সারা জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কান্নায় ভেঙে পড়ে রাজিয়া বলেন, “মা বা বোনের বিকল্প কেউ হতে পারে না। একজন মা-ই সবকিছু।”

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজের কাছে সরাসরি আবেদন জানিয়ে রাজিয়া বলেন, তিনি কেবল তার বৃদ্ধা ও অসুস্থ মায়ের দেখা পেতে চান, যাতে তার হৃদয় অবশেষে শান্তি পায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, রাজিয়া বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮ বছর বয়সে কারখানার এক সহকর্মী তাকে স্বর্ণ কেনার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ভারত হয়ে করাচিতে পাচার করে দেয়। করাচি থেকে তাকে পাত্তোকিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে এক ব্যক্তি তার শারীরিক প্রতিবন্ধী ছেলের জন্য রাজিয়াকে ৫ হাজার রুপিতে কিনে বিয়ে করিয়ে দেন।

তিনি বলেন, তার মা এখন বৃদ্ধ ও অসুস্থ। রাশিয়া আশঙ্কা করছেন যে, তিনি হয়তো আর তাকে দেখার সুযোগ পাবেন না। তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে আরো বলেন, “কে জানে তার আর কতদিন বাকি আছে? আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই যখন সে বেঁচে আছে।” 

সম্প্রতি রাজিয়ার কষ্ট আরো বেড়ে যায় যখন পাকিস্তানের ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এআইএ) তাকে বাংলাদেশ যাওয়ার পথে বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেয়। 

রাজিয়া বলেন, “আমি পাসপোর্ট বানিয়েছি, ভিসা পেয়েছি এবং টিকিটও কেটেছি। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর আমাকে যেতে দেওয়া হয়নি।”

রাজিয়া তার বিবাহিত জীবনকে খুব কঠিন হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এমন একটি দিনও কাটেনি যেখানে তিনি তার বাবা-মা এবং ভাইবোনদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করেননি। “আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে সম্পদ চাইনি। আমি কেবল আমার পরিবারের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে চেয়েছিলাম।”, তিনি বলেন।

দুই বছর আগে স্থানীয় এক ফার্মাসিস্ট রাজিয়ার মনে রাখা পুরোনো ঠিকানার সাহায্যে তার পরিবারকে খুঁজে বের করেন। এরপর ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বর্তমানে তার স্বামী মারা গেছেন এবং একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পরিবারের কাছে ফেরার আকাঙ্ক্ষা আরো জোড়ালো হয়েছে। তিনি জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে ছাগল ও মুরগি লালন-পালন করে যাতায়াতের টাকা জমিয়েছেন।

পাঞ্জাবের আইনজীবী আলী চেঙ্গেজি সান্ধু রাজিয়ার মামলাটি বিনামূল্যে লড়ছেন। জিও টিভিকে তিনি জানান, পাঞ্জাব হাইকোর্ট এফআইএ পরিচালককে ১৫ দিনের মধ্যে যোগ্যতার ভিত্তিতে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজিয়ার কাছে রিটার্ন টিকিট, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা রয়েছে। বিমানে উঠতে না পারায় তার প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ রুপির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, যা এফআইএ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত বলে আইনজীবী সান্ধু মনে করেন।

রাজিয়া বিশ্বাস করেন যে, পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী একজন মা হিসেবে তার ব্যথা বুঝবেন। তিনি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, “মরিয়ম নওয়াজ আমার মায়ের মতোই একজন মা। আমি দেখা করার আগেই যদি আমার মা মারা যান, তাহলে আমি শোকেই মারা যাব।”

রাজিয়ার আত্মীয়স্বজনরাও পাঞ্জাব সরকারের কাছে তার মামলার দিকে নজর দেওয়ার এবং তার দশকের পর দশক ধরে চলা মানসিক যন্ত্রণার অবসান ঘটাতে সহায়তা করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়