ভারতের কাছে হারের কারণ হিসেবে যা জানালেন সালমান
কলম্বোর আলো ঝলমলে সন্ধ্যায় প্রত্যাশার চূড়ায় ছিল ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ। কিন্তু মাঠের লড়াই শেষে পাকিস্তান শিবিরে ভর করেছে হতাশা। ৬১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর অধিনায়ক সালমান আলী আগা স্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করলেন পরিকল্পনা ঠিক থাকলেও বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতিই ডুবিয়েছে দলকে।
টসে জিতে প্রতিপক্ষকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় পাকিস্তান। কন্ডিশন বিবেচনায় একাদশে রাখা হয় চারজন স্পিনার। ভাবনা ছিল ধীরগতির উইকেটে ঘূর্ণনই হবে প্রধান অস্ত্র। কিন্তু বাস্তবতা অন্য কথা বলেছে।
ভারতের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান ইশান কিষান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন। তার ঝড়ো অর্ধশতকে পাকিস্তানের ঘূর্ণি আক্রমণ ছন্দ হারায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ভারত তোলে ১৭৫ রান। যা টি-টোয়েন্টির মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সংগ্রহের চেয়েও বেশি। বিশেষত চাপের ম্যাচে।
আবরার আহমেদ তিন ওভারে ৩৮ রান খরচ করেন। অভিজ্ঞ শাদাব খান এক ওভারে দেন ১৭ রান। দুজনের কেউই উইকেট পাননি। ম্যাচ শেষে সালমান আলী আগা বলেন, “আমরা চার স্পিনার নিয়ে নেমেছিলাম। কিন্তু দিনটা আমাদের ছিল না। সঠিক জায়গায় বল ফেলতে পারিনি।”
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ছয় ওভারে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট হারিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় তারা। আঠারো ওভারে একশ চৌদ্দ রানে অলআউট হয়ে যায় দল।
অধিনায়ক অকপটে স্বীকার করেন, “টি-টোয়েন্টিতে প্রথম ছয় ওভারের গুরুত্ব অপরিসীম। সেখানে যদি তিন-চারটি উইকেট হারান তাহলে ম্যাচে ফেরাটা কঠিন হয়ে যায়।”
তিনি আরও জানান, প্রথম ইনিংসে উইকেট ধীর ছিল এবং বল কিছুটা গ্রিপ করছিল। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং তুলনামূলক সহজ হওয়ার কথা থাকলেও দল পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারেনি।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি চাপ। আগা বলেন, “এই ধরনের ম্যাচে আবেগ থাকবেই। কিন্তু আবেগের সঙ্গে সঙ্গে শৃঙ্খলা আর পরিকল্পনার বাস্তব প্রয়োগ জরুরি।”
পরাজয় সত্ত্বেও সামনে তাকাতে চাইছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে পরবর্তী পর্বে জায়গা নিশ্চিত করাই এখন লক্ষ্য। তার ভাষায়, “এই হার ভুলে যেতে হবে। সামনে ম্যাচ আছে। জয় পেলে নতুন করে শুরু করার সুযোগ থাকবে।”
১৭৫ রান তাড়া করতে নেমে ১১৪ রানে থেমে যাওয়া পাকিস্তানের জন্য শুধু একটি হার নয়, রান ব্যবধানের দিক থেকেও এটি বড় ধাক্কা। নেট রান গড়ের হিসাবেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
ঢাকা/আমিনুল