এম এ জি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
এম এ জি ওসমানী।
এম এ জি ওসমানীকে কে না জানে। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার সামরিক নেতৃত্বে পশ্চিম পাকিস্তানিদের কবল থেকে দেশ মুক্ত হয়। তার অসাধারণ বীরত্ব ও কৃতিত্ব বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। আজ ১৬ ফেব্রুয়ারি এই বঙ্গবীরের মৃত্যুবার্ষিকী।
১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার্থে লন্ডন থাকাকালীন ইন্তেকাল করেন এম এ জি ওসমানী। তিনি পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সিলেটে সমাহিত হন। তার অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী শাহজালাল (র.) এর দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থানে মায়ের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
এম এ জি ওসমানীর জন্ম ১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাবার কর্মস্থল সুনামগঞ্জে। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। শৈশবে তার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পরিবার থেকে। কোনো স্কুলে ভর্তি না হয়ে, ঘরে বসেই মায়ের অনুশাসন এবং গৃহশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বাংলা ও ফার্সি ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ তিনি।
১৯২৯ সালে ১১ বছর বয়সে এম এ জি ওসমানীকে আসামের গৌহাটির কটনস স্কুলে ভর্তি করা হয়। সেখানে পড়ালেখা শেষ করার পর মায়ের ইচ্ছায় ১৯৩২ সালে সিলেট সরকারি পাইলট স্কুলে ৯ম শ্রেণিতে ভর্তি করা হয় তাকে। এই স্কুল থেকে ১৯৩৪ সালে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাস করেন এবং ইংরেজিতে কৃতিত্বের জন্য ‘প্রিটোরিয়া অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন। ১৯৩৪ সালে তিনি উচ্চ শিক্ষার্থে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি ১৯৩৬ সালে আইএ পাস করেন। ১৯৩৮ সালে বি.এ পাশ করেন। ছাত্র হিসাবে সব সময়ই ওসমানী অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি দক্ষতার পরিচয় দেন। ন্যায়পরায়ণতা, শৃঙ্খলা এবং কর্তব্যপরায়ণতা তার চারিত্রিক গুণাবলি বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউ.ও.টি.সি’র (ইউনিভার্সিটি অফিসার্স ট্রেনিং কোর) সার্জেন্ট নিযুক্ত হন।
এম এ জি ওসমানী ১৯৩৯ সালে জুলাই মাসে ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালে ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে উত্তীর্ণ হয়ে আর্মির কিং কমিশন প্রাপ্ত হন। ১৯৪১ সালে ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং যোগ্যতার বলে তিনি ১৯৪২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্রিটিশ আর্মির সর্ব কনিষ্ঠ মেজর হন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটোলিয়ানের অধিনায়ক হয়ে নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ১৯৪৩ সাল থেকে ১৯৪৫ পর্যন্ত বার্মার রণাঙ্গনে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে ওসমানী তার বাবার ইচ্ছা পূরণে আই.সি.এস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে উত্তীর্ণ হন।
এম এ জি ওসমানী ১৯৪৭ সালে ৭ অক্টোবর লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পি.এস.সি ডিগ্রি লাভ করেন। তাকে ১৯৫৫ সালে ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তানের সেনা সদর অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার নিয়োগ করা হয়। এখানে তাকে ১৯৫৬ সালে ১৬ মে মাসে কর্নেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টর এর দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়।
এসময় আন্তর্জাতিক সংস্থা সিয়াটো ও সেন্টোতে ওসমানী পাকিস্তান বাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে ওসমানীর দক্ষতার সঙ্গে ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্ব পালন করেন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্নেল পদে কর্মরত থাকাকালীন ওসমানী একজন স্বাধীন চেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় অবসরে যান এম এ জি ওসমানী।
তিনি ১৯৭০ এর নির্বাচনে ফেঞ্চুগঞ্জ-বালাগঞ্জ-বিশ্বনাথ এলাকা থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য (এমএনএ) নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে অসামান্য কৃতিত্ব প্রদর্শন করেন এম এ জি ওসমানী। মুক্তিবাহিনীর প্রধান হিসেবে পালন করেন অতুলনীয় ভূমিকা।
ঢাকা/রাহাত/মাসুদ