ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

রোজা শুরুর আগেই পটুয়াখালীর বাজারে আগুন

পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:৪২, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৪:৪১, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রোজা শুরুর আগেই পটুয়াখালীর বাজারে আগুন

মাছ

পবিত্র রমজান মাস শুরু হতে কয়েকদিন বাকি। তার আগেই পটুয়াখালীর নিত্যপণ্যের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপকূলীয় এই শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। 

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ৫ থেকে টাকা বেড়ে মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৭৮ টাকা দরে। ১০ টাকা বেড়ে মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। খোলা সয়াবিন তেল লিটারে ১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়।

আরো পড়ুন:

বাজারে পাঁচ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। এই পণ্যটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। রসুনও ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজিতে। ছোলার দাম এখানকার বাজারে বেড়েছে ১০টাকা। এই খাদ্যপণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

ইলিশসহ দেশীয় মাছের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা। গত সপ্তাহে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হওয়া ৫০০ গ্রামের ইলিশ এ সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। ২০০ টাকার প্রতি কেজি পাঙ্গাস ও তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকা। রুই, কাতল ও মৃগেল মাছ কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারে ১৫০ টাকার ব্রয়লায় ১৮০ টাকা, ২৮০ টাকার সোনালী ৩১০ টাকা ও ৪৫০ টাকার দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৪৯০ টাকায়। এছাড়া ৭০০ টাকার গরুর মাংস ৮০০ টাকা ও ১১০০ টাকার খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়। তবে, ডিমের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। 

অপরদিকে, সব ধরনের সবজির দামও বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। সবেচেয়ে বেশি বেড়েছে লেবুর দাম। গত সপ্তাহের তুলনায় লেবু বিক্রি হচ্ছে দ্বিগুণ দামে। বড় সাইজের প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।

কলাপাড়া মাছ বাজারে মাছ কিনতে আসা ইনসুচ হোসেন বলেন, “হঠাৎ সব কিছুর দাম বেড়ে গেছে। না খেয়ে বাঁচা যাবে না সে কারণে কিনতে এসেছে। দেশি মাছ ও লেবুর দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসলে কীভাবে রোজার মাস কাটাব সেটাই এখন ভাবার বিষয়।” 

একই এলাকার রহমান মিয়া বলেন, “হঠাৎ মাংসের দাম কেজিতে ১০০ টাকা, পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা এবং সব সবজির দাম বেড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে পেট চালানো দায় হয়ে পরবে। আমরা বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাচ্ছি।” 

কলাপাড়া মাছ বাজারের বিক্রেতা মাসুম খন্দকার বলেন, “বর্তমানে দেশি মাছের সংকট চলছে। নদীতে জেলেরা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাচ্ছেন না, আমরা চাহিদা তুলনায় পাচ্ছি না। যে কারণে একটু বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। বেশি দামে কেনায় বেশি দামেই ক্রেতাদের কাছে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে আমাদের।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাউসার হামিদ বলেন, “আমরা রমজান মাস শুরুর আগেই বাজার মনিটরিং করব। যদি কোনো ব্যবসায়ী পণ্য মজুত করে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঢাকা/ইমরান/মাসুদ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়