নতুন মন্ত্রীদের অপেক্ষায় সচিবালয়
ছবি: রাইজিংবিডি
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত, আর সেই পরিবর্তনের আগাম বার্তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে সচিবালয়জুড়ে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয় ঘুরে দেখা গেছে, নতুন মন্ত্রীদের বরণ করে নিতে সচিবালয়ে এরই মধ্যে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামনে বসানো হয়েছে নতুন নামফলক, কোথাও কোথাও বদলে ফেলা হয়েছে কক্ষের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিরাজ করছে বাড়তি ব্যস্ততা। নতুন নেতৃত্বকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি যেন চোখে পড়ার মতো।
সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিন পর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা দায়িত্ব নিতে আসছে। তাই দপ্তরগুলোকে নতুন করে সাজানো হচ্ছে। নামফলক থেকে শুরু করে কক্ষের ভেতরের পরিবেশ সবকিছুতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি মন্ত্রীর দপ্তরের বারান্দায় এখনও ঘষামাজার কাজ চলছে। সোমবার সকাল ১১টার দিকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনের ফ্লোরে টাইলস পরিষ্কারের কাজ চলতে দেখা যায়। তথ্য ও সম্প্রচার, আইনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সামনে আনা হয়েছে নতুন ফুলের টব।
সচিবালয় প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “যেসব মন্ত্রণালয়ে নতুন মুখ আসছেন, সেখানে প্রস্তুতি একটু বেশি। পুরোনো মন্ত্রীরা ফিরলে কেবল আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতিই যথেষ্ট।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল কিংবা সাড়ে ১২টার পর থেকে নতুন মন্ত্রীরা একে একে নিজ নিজ দপ্তরে আসতে শুরু করবেন। তার আগে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলে জানা গেছে।
একজন কর্মকর্তা জানান, শপথের পরপরই মন্ত্রীরা সচিবালয়ে আসবেন। সেই অনুযায়ী আমাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।এতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।
মন্ত্রি পরিষদ বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা হাসিবুল ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠন নয় বরং গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা।”
ঢাকা/এএএম/এসবি