ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৪ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

৯৯ শতাংশ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, দায় ও ঋণগ্রস্ত হার স‌র্বোচ্চ: টিআইবি

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১৩, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১৭:১৪, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৯৯ শতাংশ প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন, দায় ও ঋণগ্রস্ত হার স‌র্বোচ্চ: টিআইবি

ছবি: রাইজিংবিডি

দায় ও ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্যের হার নবম সংসদে ছিল ৫৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ, দশম সংসদে ৫৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ, একাদশ সংসদে ৫১ দশমিক ৩০ শতাংশ, দ্বাদশ সংসদে ৫২ শতাংশ এবং ত্রয়োদশ সংসদে তা কিছুটা কমে ৪৯ দশমিক ৮৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ৯৯ শতাংশই কোনো না কোনোভাবে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে।

আরো পড়ুন:

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব তথ্য তুলে ধরেন।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর পর্যবেক্ষণে দায় ও ঋণগ্রস্ত সংসদ সদস্যের হার এবার স‌র্বোচ্চ উল্লেখ ক‌রে ইফতেখারুজ্জামান ব‌লেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ঘোষিত মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা বিগত চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ।”

তি‌নি জানান, নতুন সংসদের বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ দায় ও ঋণগ্রস্ত।

প্রতিবেদনে টিআইবি জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের মোট দায় বা ঋণ ছিল ১ হাজার ১০৭ কোটি টাকা। দশম সংসদে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬২৪ কোটি টাকা, একাদশ সংসদে ৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা এবং দ্বাদশ সংসদে ১০ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। সর্বশেষ ত্রয়োদশ সংসদে এই অঙ্ক আরো বেড়ে ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদের প্রায় অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণগ্রস্ত। দলভিত্তিক হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬২ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই হার ১৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

গবেষণার অন্তর্ভুক্ত আসনগুলোতে ৯৯ শতাংশ প্রার্থী কোনো না কোনোভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন উল্লেখ ক‌রে টিআইবির প্রতি‌বেদ‌নে বলা হয়, ছোটখাটো শোডাউন, যানবাহনসহ মিছিল, মশাল মিছিল, প্রতিপক্ষের পোস্টার-ব্যানার ছেঁড়া, অতিরিক্ত সমর্থক নিয়ে মনোনয়ন দাখিল-এ ধরনের বিভিন্ন অনিয়ম ঘটেছে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই প্রচারে ব্যাপক লঙ্ঘন হয়েছে এবং বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সব অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।

টিআইবির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনের শুরুতে সুস্থ প্রতিযোগিতার কিছু উপাদান থাকলেও ভোট ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তা অনেক ক্ষেত্রে অসুস্থ প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়। ‘বিজয়ী হতেই হবে’ মানসিকতা নির্বাচনি আচরণে প্রতিফলিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে বিরোধী অবস্থান ও নির্বাচনবিরোধী তৎপরতার প্রভাব বিভিন্ন স্থানে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কারণে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অসহিষ্ণুতার ঘটনাও দেখা গেছে।

সংস্থাটি বলছে, এবারের নির্বাচনে অর্থ, পেশিশক্তি, ধর্ম এবং পুরুষতান্ত্রিকতার প্রভাব স্পষ্ট ছিল। কিছু ক্ষেত্রে সংখ্যাগরিষ্ঠতান্ত্রিক মনোভাবও সুস্থ প্রতিযোগিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। নারী, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী এবং প্রতিবন্ধী ভোটারদের মধ্যে শঙ্কা ও অস্থিরতা কাজ করেছে, যার প্রভাব ভোটার উপস্থিতিতেও পড়েছে। ভোটার উপস্থিতি ছিল প্রায় ৬০ শতাংশ। বৈশ্বিক মানদণ্ডে তা উল্লেখযোগ্য হলেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রত্যাশার তুলনায় কম। প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটার ভোট দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন, যার পেছনে আস্থার ঘাটতি অন্যতম কারণ বলে মনে করে টিআইবি।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মনোনয়ন যাচাইয়ে সর্বাধিক আপিল ও বাতিলের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় সংস্থাটি। এক শতাংশ সমর্থকের স্বাক্ষর থাকা সত্ত্বেও যাচাইয়ের সময় সমর্থককে না পাওয়া বা স্বাক্ষরে অসামঞ্জস্যতার অজুহাতে মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ রয়েছে। ৪৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও ৩৫০ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়, যা মোটের ৭৩ শতাংশ।

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার করলেও বাস্তবে তা রক্ষা হয়নি বলা হয় প্রতি‌বেদ‌নে। 

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/এসবি

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়