ঢাকা     সোমবার   ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ||  ফাল্গুন ৩ ১৪৩২

Risingbd Online Bangla News Portal

‘মন্ত্রণালয়’ চায় গাজীপুর-৫ আসনের জনতা

গাজীপুর (পূর্ব) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:৪২, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬   আপডেট: ১০:৪৫, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘মন্ত্রণালয়’ চায় গাজীপুর-৫ আসনের জনতা

নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য রাখছেন এ কে এম ফজলুল হক মিলন। ফাইল ছবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জনের পর স্থানীয় জনমনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এ কে এম ফজলুল হক মিলন। ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন এলাকার সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণ।

স্থানীয় চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-সবখানেই এখন একটাই প্রশ্ন: গাজীপুর থেকে কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রী? আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সাবেক ছাত্রনেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভিজ্ঞ এই নেতা।

আরো পড়ুন:

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ফজলুল হক মিলন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের প্রথম কমিটির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

ছাত্ররাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং বৃহত্তর ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক জীবনে সাতবার কারাবন্দি হওয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্র জানায়। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন।

ফজলুল হক মিলন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও যুক্ত ছিলেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর আমন্ত্রণে সিঙ্গাপুরে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন এবং যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্সের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ পান। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী হিসেবে সার্ক সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় ছাত্রনেতা আবুল হোসেন প্রিন্স বলেন, “ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন জাতীয় নেতার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের একটি স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।”

অন্যদিকে যুব অ্যাক্টিভিস্ট রানা সরকার বলেন, “শিল্প, অর্থনীতি ও কৌশলগত গুরুত্বের কারণে গাজীপুর জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ। এ জেলার প্রতিনিধিত্ব মন্ত্রিসভায় থাকা জরুরি। সেই বিবেচনায় অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে ফজলুল হক মিলনই সবচেয়ে উপযুক্ত।”

ঢাকা কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা আবু বকর সিদ্দিকের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তাকে একটি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে যে আলোচনা চলছে, তা পুরোপুরি অমূলক নয়।

গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই- তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হোক জাতীয় পর্যায়ে।

ঢাকা/রফিক/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়