কুষ্টিয়ায় পাঁচ জাসদ নেতার ২৭তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
কাজী আরেফ আহমেদসহ (ডানে) নিহত অন্যরা। ফাইল ফটো
কুষ্টিয়ায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ নেতাকে গুলি করে হত্যার ২৭তম বার্ষিকী আজ ১৬ ফব্রুয়ারি।
এ উপলক্ষে সোমবার কাজী আরেফ পরিষদ ও ইয়াকুব আলী স্মৃতি সংসদ পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শহীদদের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহা পাঠ ও স্মরণ সভা। শহীদ ইয়াকুব ট্রাস্টের আয়োজনে আজ সোমবার সকালে ফিলিপনগর পিএম কলেজ চত্বরে শহীদের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে বলে শহীদ ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে ইউসুফ আলী রুশো জাানিয়েছেন।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় বক্তৃতাকালে সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে নিহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের তৎকালীন সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেন, জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মন্ডল।
ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করে। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে ৫ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামিকে ফাঁসি ও ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগষ্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ১২ আসামির সাজা মওকুফ করেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির ৩ আসামি রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। ২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারি ফাঁসির ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা সুপ্রিমকোর্টে রিভিউ করলে তাও ২০১৪ সালের ১৯ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এরপর ২০১৬ সালের ৭ জানুয়ারি গভীর রাতে যশোর কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ৩ আসামি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ফাঁসির অপর আসামি রওশন আলী যশোর কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, ফাঁসির সাজা হওয়া আরো চারজনের মধ্যে দৌলতপুরের কিশোরীনগর গ্রামের বাখের আলী ২০২৪ এর ৫ আগস্ট নিহত হন। অন্য তিন আসামি এখনো গ্রেপ্তার হয়নি বলে নিহতদের পরিবাররা জানিয়েছেন।
ঢাকা/কাঞ্চন/মাসুদ