রাজশাহীতে গুলিতে নিহত দিনমজুরের দাফন, মামলা
রাজশাহী প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
স্বামী গোলাম মোস্তফার শোকে আহাজারি করছেন স্ত্রী নাদেরা বেগম। রবিবার সকালে তোলা ছবি।
রাজশাহীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত দিনমজুর গোলাম মোস্তফার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে খোঁজাপুর কবরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী নাদেরা বেগম সন্দেহভাজন তিনজনের বিরুদ্ধে শনিবার মধ্যরাতে মামলা করেছেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন- হাসিবুল ইসলাম (৪২), সিহাবুল ইসলাম (২২) ও মো. উকিল (৫২)। তারা সবাই গোলাম মোস্তফার প্রতিবেশী।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “পূর্ব শত্রুতার জেরে গোলাম মোস্তফাকে (৫০) গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পরিবার। সন্দেহভাজন তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। আসামিরা পলাতক। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।”
রবিবার সকাল ১১টার দিকে রাজশাহী নগরীর ডাঁশমারি এলাকার নিহত মোস্তফার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী নাদেরা বেগম বিলাপ করছিলেন। তিনি বলছিলেন, “ও আল্লাহ গো, আমার কেনো এই ঘটনা ঘটল। ও আল্লাহ গো, আমি কি নিয়ে থাকব। আমি একলা বাড়িতে কি করে থাকব। আমাকে কেডা দেখবে গো- ও আল্লাহ।”
নাদিরা বেগম বলেন, “আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমার স্বামী মোড়ে চা খেতেও যায় না। বাড়িতে আমাকে চা করে দিতে বলে, তারপরে খায়। কোনো দল, পার্টিতে থাকে না- যায়ও না। নামাজ পড়ে এসে বাড়িতে ঢোকে আর বাইর হয় না। ওজু করে নামাজ পড়তে গেল আর ফিরে আসল না।”
তিনি জানান, প্রতিবেশী উকিল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাদের গণ্ডগোল হয়েছিল। এক বছর আগের মারামারি নিয়ে বিরোধ ছিল। তাছাড়া কারো সঙ্গে সমস্যা নেই। তাকে সবাই ভালোবাসে।”
নিহতের স্বজনরা জানান, উকিল নামে এক ব্যক্তি এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে। উকিল একই এলাকার নহির উদ্দিনের ছেলে। পেশায় অন্যের জমি কেনাবেচা করেন।
এ বিষয়ে জানতে উকিলের বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। বাইরে থেকে বাড়ির মূল গেটে ছেড়া মশারির দড়ির মতো করে বেঁধে রাখা হয়েছে। প্রতিবেশীরা তার সন্ধান দিতে পারেনি। এছাড়া, আশেপাশের মানুষও তেমন কিছু জানাতে পারেনি।
উকিলের প্রতিবেশী শাপলা বলেন, “রাত থেকে তারা বাড়িতে নেই। বলতে পারব না, কেন তারা বাড়িতে নেই। আমাদের কাউকে কিছু বলেও যায়নি।”
নিহতের ভাতিজি শাকিলার ভাষ্য, “একবছর আগে মারামারি হয়েছিল। উকিলরা আমার চাচা ও ভাইদের মেরেছিল। সেই সময় প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন উকিল। সেই ঘটনা জেরে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।”
এদিকে, বিকেলে গোলাম মোস্তফার দাফন সম্পন্ন হয়। খোঁজাপুর গোরস্থানে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেন।
গত শনিবার রাতে মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় খোঁজাপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে দিনমজুর গোলাম মোস্তফা আহত হন। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানকার চিকিৎসক মোস্তফাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঢাকা/মাহী/মাসুদ