বাগেরহাটে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নিহত ওসমানের দাফন
বাগেরহাট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
বাগেরহাটে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলায় নিহত ওসমান সরদারের (২৯) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বাগেরহাট সদর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের পারনওয়াপাড়া গ্রামে নিহতের গ্রামের বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাগেরহাট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন ও ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী এম এ এইচ সেলিমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। সদর উপজেলার পারনওয়াপাড়া ও কচুয়া উপজেলার ছিটাবাড়ি গ্রামে হওয়া দু’পক্ষের ওই সংঘর্ষে গুরুত্বর আহত ওসমান সরদার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়।
সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার দুপুরে পারনওয়াপাড়া গ্রামের বাড়িতে আনা হয় ওসমান সরদারের মরদেহ।
সংঘর্ষের পর দুদিন কেটে গেলেও রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। এমনকি সংঘর্ষে জড়িত কাউকে আটকও করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনী। তবে হত্যায় জড়িতদের ‘শনাক্ত করা হয়েছে’ জানিয়ে তাদের ধরতে অভিযান চলছে- এমনটি বলেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন।
সংঘর্ষে আহত পরনওয়াপাড়া গ্রামের ইমরান সরদার নিহত ওসমানের চাচাতো ভাই। প্রতিপক্ষের আঘাতে তার শরীরের বেশ কিছু স্থানে জখমসহ নাকের বাঁ পাশ কেটে গেছে। সেখানে সেলাই লেগেছে।
“ইমরান বলেন, “পশ্চিম পারনওয়াপাড়ার শহিদুল হাওলাদারসহ ৪০ থেকে ৫০ জন লোকজন দা, লাঠিসোঠা নিয়ে আমাদের এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলতে থাকে ‘কারা ঘোড়ায় ভোট দিছিস’। এই বলে যাকে পাচ্ছিল তাকে মারতে ছিল। এক পর্যায়ে গ্রামবাসী মিলে তাদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে দু-পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।”
ওই গ্রামের অন্তত ছয়জন ঘটনার জন্য বেলায়েত হোসেন ডিগ্রি কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সদর উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আবুল হাসান শেখ ও গোটাপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল খানকে দায়ী করছেন। তাদের ভাষ্য, তাদের নেতৃত্বেই পাশের এলাকা থেকে লোকজন এই এলাকায় আসে। পরে এলাকার ছেলেদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধলে পাশের গ্রাম ছিটাবাড়িতে গিয়েও কোপাকুপি হয়।
সংঘর্ষে ওসমানসহ বেশ কয়েকজন রক্তাক্ত জখম হয়। ওসমানের মাথায় কোপ লেগেছিল, কপাল থেকে মাথার মাঝ পর্যন্ত গভীর ক্ষত হয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর থেকে তিনি বমি করছিলেন।
ওসমানের চাচাতো বোন লাইলী আক্তার বৃষ্টি বলেন, “পাঁচ বছর আগে বিয়ে করেন ওসমান। তাদের ঘরে একটি ছোট ছেলে সন্তান রয়েছে। সবাই এক দল করে। এই যে প্রাণডা গেল, বাচ্চাটার কী হবে, পরিবারটার কী হবে?”
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে শহিদুল, আবুল হাসান ও হাফিজুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি। সবার ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ বলছে, মামলা না হলেও তারা তদন্ত শুরু করেছে। একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তবে যেহেতু সন্দেহভাজন হিসেবে আটক, তাই নাম-পরিচয় জানানো হয়নি।
কচুয়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ওসমানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার পরিবার মামলা করবে।
ভোট গ্রহণ শেষের পর থেকে শনিবার পর্যন্ত বাগেরহাটে বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত এবং বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর মধ্যে একধিক সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক আহত ছাড়াও অন্তত ১৫টি বাড়ি ভাঙচুর ও তছনছ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত বাগেরহাট সদরে দুটি এবং শরণখোলায় একটি মামলা হয়েছে।
শিবিরের বিক্ষোভ
দেশব্যাপী হত্যা, সন্ত্রাস ও বিরোধী দলীয় সমর্থকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বাগেরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। রবিবার বিকালে শহরের নতুন কোটের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের দশানী সার্কিট হাউজের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
এ সময় মিছিল থেকে ‘আমার ভাই মরলো কেন, তারেক রহমান জবাব চাই’, ‘আমার বোন ধর্ষিতা কেন, তারেক রহমান জবাব চাই’, ‘প্ল্যান প্ল্যান, কি প্ল্যান, খুন করার মাস্টার প্ল্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাগেরহাট জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোরশেদ আলম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম, ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য বেলাল হোসাইন আপু , শিবিরের জেলা সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আব্দুল্লাহ প্রমুখ।
ঢাকা/আমিনুল/রাসেল