বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাকলে সম্পর্ক উন্নত হবে: ত্রিপুরা ও জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী
কলকাতা ব্যুরো || রাইজিংবিডি.কম
বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার আসায় ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটবে। এমন আশা করেছেন ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এবং বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের নতুন সরকার ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নত করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তারা। তাদের অভিমত স্থিতিশীল প্রতিবেশী থাকা ভারতের জন্য উপকারী।
রবিবার ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন “বাংলাদেশের নতুন সরকার গঠনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কের উন্নতি ঘটবে। আমাদের সবার কাছে একটা ভালো খবর যে এতদিন পর একটি নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশ ক্ষমতায় বসতে চলেছে।”
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশভাগের পর অনেক পরিবার বিভক্ত হয়ে পড়ে, যাদের আত্মীয়স্বজন সীমান্তের উভয় পাশে বাস করত। আমি বিশ্বাস করি যে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের অধীনে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং শক্তিশালী হবে, যা বাংলাদেশের সাথে বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্বের একটি নতুন যুগের সূচনা করবে।”
অন্যদিকে শের-ই-কাশ্মীর কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কৃষি প্রযুক্তি উৎসবে গণমাধ্যমের কর্মীদের মুখ্যমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলো যত বেশি স্থিতিশীল হবে, ততই আমরা লাভবান হব। কেউই যুদ্ধ ও মারামারি বা অস্থিতিশীল প্রতিবেশী চায় না- তা সে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা অন্য যে কোনো দেশই হোক না কেন।”
তিনি জানান, ভারত চায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র বজায় থাকুক এবং এটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলুক।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা আশা করি বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পরে ভারত ও বাংলাদেশ- উভয় দেশই তাদের সম্পর্কের উন্নতি করবে, কারণ অতীতে এই সম্পর্ক কিছুটা তিক্ততার সম্মুখীন হয়েছিল।”
এদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সবথেকে ঘনিষ্ঠ রাজ্য হিসেবে পরিচিত পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হবু প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গত শনিবার সন্ধ্য়ায় তারেক রহমানকে ফোন করেন তিনি। ফোনালাপে কী কথা হয়েছে তা অবশ্য জানা যায়নি।
সৌজন্যের জায়গাটা যে শুধু একটা ফোনালাপ দিয়ে মিটে গিয়েছে এমনটা নয়। তারেক রহমানকে ফুল-মিষ্টিও পাঠিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাঠানো এই ফুল-মিষ্টি শনিবার সন্ধ্যায় তারেক রহমানের গুলশানের কার্যালয়ে পৌঁছায়।
পরে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও করেন। নিজের পোস্টে মমতা লেখেন, “শুভনন্দন, আমার সকল ভাই-বোনদের, বাংলাদেশের সকল মানুষকে আমার আন্তরিক অভিনন্দন। তাদের সবাইকে আমার অগ্রিম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন। আমাদের সঙ্গে সব সময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।”
ঢাকা/সুচরিতা/শাহেদ