আহসান মঞ্জিলে দর্শনার্থীদের ভিড়
ঈদের ছুটিতে রাজধানী আহসান মঞ্জিলে দর্শনার্থীদের ভিড় বেড়েছে। বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনায় প্রতিদিনই মানুষের উপস্থিতি থাকলেও ছুটির দিনে সে সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে আসা মানুষজন পুরনো ঐতিহ্য আর ইতিহাসের স্পর্শে বেশ আনন্দিত সময় কাটাচ্ছেন।
ঈদের তৃতীয় দিন সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল থেকেই দর্শনার্থীদের ঢল নামে আহসান মঞ্জিল প্রাঙ্গণে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষজন ছুটে আসেন এখানে। অনেকেই দীর্ঘদিন কাজের ব্যস্ততার কারণে পরিবারকে সময় দিতে পারেননি, তাই ছুটির সুযোগে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন এই ঐতিহাসিক স্থানটি ঘুরে দেখতে।
পোশাককর্মী মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। তিনি বলেন, “কাজের প্রচণ্ড চাপের কারণে পরিবারের সঙ্গে কোথাও যাওয়া হয় না। এই ছুটিতে বাচ্চাদের নিয়ে এখানে এসেছি। সদরঘাট ও আহসান মঞ্জিল দেখে আমরা সবাই খুব আনন্দিত।”
শ্যামলীর বাসিন্দা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বাচ্চাদের সময় দেওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়ে। ঈদের ছুটি থাকায় আজকে তাদের নিয়ে এখানে এসেছি। জায়গাটা খুব সুন্দর, ইতিহাস জানার সুযোগও হচ্ছে।”
দর্শনার্থী নাসিমা বেগম বলেন, “আমাদের পূর্বপুরুষরা কত উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনযাপন করতেন, তা এখানে এসে বোঝা যায়। তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আজও সংরক্ষিত আছে। সরকার যদি এসব নিদর্শন আরো যত্নসহকারে রক্ষা করে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনেক কিছু জানতে পারবে।”
আহসান মঞ্জিলের কিপার সুলতান মাহমুদ জানিয়েছেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীর সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী এসেছে। আমরা আনসার ও পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে নিরাপত্তা জোরদার করেছি।”
গতকাল রবিবার প্রায় ৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছে। সোমবার সেটা ছাড়িয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
প্রতিবন্ধী দর্শনার্থীদের সুবিধা প্রসঙ্গে তিনি জানান, বর্তমানে সীমিত কিছু ব্যবস্থা থাকলেও ভবিষ্যতে আরো উন্নত সুবিধা, যেমন: র্যাম্প নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা সহজে চলাচল করতে পারেন।
সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান ও ঝুলন্ত পণ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান চালাই। পুলিশ ও আনসারের সহযোগিতায় এগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে, কিছুদিন পর আবার তারা ফিরে আসে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।”
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নান্দনিক সৌন্দর্যের কারণে আহসান মঞ্জিল এখনো রাজধানীর অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে।
ঢাকা/আলী/রফিক