ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩ ১৪৩৩ || ২৮ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

তিন ধরনের যুদ্ধ সামাল দিচ্ছে দেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫৯, ১৬ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:১৭, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
তিন ধরনের যুদ্ধ সামাল দিচ্ছে দেশ: পানিসম্পদমন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ছবি: সংগৃহীত

দেশ একসঙ্গে তিন ধরনের ‘যুদ্ধ’ মোকাবিলা করছে উল্লেখ করে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জাতীয় সংসদে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই। এই তিন চাপই এখন সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৭১ বিধিতে উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আরো পড়ুন:

পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিয়ে দেশ এগোলেও প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই সবচেয়ে কঠিন। বিশেষ করে নদীভাঙন প্রবণ এলাকার মানুষ প্রতিনিয়ত এই বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। নদীর পাড়ে যারা থাকেন, তারাই এই কষ্টটা সবচেয়ে বেশি বোঝেন। 

আলোচনার একপর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, সুমেশ্বরী ও কংস নদীর ভাঙনে আমিও ভুক্তভোগী।

সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসান যে নোটিশ উত্থাপন করেছেন, সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এ বিষয়ে বক্তব্য রাখা সংসদ সদস্যদেরও তিনি ধন্যবাদ জানান।

মন্ত্রী জানান, সুরমা ও কুশিয়ারা এই দুই নদী ভারতের বরাক নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে সিলেট অঞ্চলে প্রবাহিত হয়েছে। উজানে পাহাড়ি এলাকায় স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে (২০২২, ২০২৪ ও ২০২৫) ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। ফলে নদীভাঙন পরিস্থিতিও জটিল আকার নিয়েছে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত।

প্রকল্পের আওতায় জকিগঞ্জে ১৩টি স্থানে ৪ দশমিক ৩৩৫ কিলোমিটার এবং কানাইঘাটে ৪টি স্থানে ১ দশমিক ৪৪০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ কাজ করা হবে। মোট ৫ দশমিক ৭৭৫ কিলোমিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এতে ওই অঞ্চলের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নদীভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

সীমান্তবর্তী এলাকায় কাজ হওয়ায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনিয়তার কথাও তুলে ধরে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়েছে। যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক চলমান রয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসক ও ভারতের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়েও বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।

সব প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুত কাজ শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।

ঢাকা/এএএম//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়