উৎসবের পরেই নোংরা ক্যাম্পাস, প্রশ্নে প্রশাসন
ঢাবি প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
পহেলা বৈশাখ উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনভর মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল ক্যাম্পাস। তবে, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত নামতেই চিত্র বদলে যায়। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনায়,পুরো ক্যাম্পাস যেন খোলা ডাস্টবিনে পরিণত হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাতে সরেজমিনে ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত টিস্যু, পানির বোতল, খাবারের প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
এ অবস্থায় রাত ১১টা ৯ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট ম্যানেজার ফাতেমা বিন মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগ করেন রাইজিংবিডি ডটকমের এই প্রতিবেদক। এ সময় ফোনে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে বলেন, “এখন রাত ১১টা, এটা কি ফোন দেওয়ার সময়? আমি নামাজ পড়বো। পরে ফোন দিন, ধন্যবাদ।”
তার এমন প্রতিক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। বিজয় একাত্তর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইফতেখার সিফাত বলেন, “দিনের বেলায় ক্যাম্পাসে এমন পরিস্থিতি ছিল না। কিন্তু, রাতে পরিবেশ দূষিত হওয়ায় তাকে ফোন দিলে যে উত্তর দিলেন, তা দায়িত্বশীল আচরণ নয়। পরিবেশ দূষণ তো নির্দিষ্ট সময় মেনে হয় না।”
ক্যাম্পাসের সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা জানান, তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগ এর আগেও উঠেছে অভিযুক্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
এদিকে, ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ময়লা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী আবু মুহসিন বলেন, “প্রশাসনের উদাসীনতাই এমন পরিস্থিতির মূল কারণ। দিনভর মানুষ ঢুকতে দেওয়া হলেও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর তদারকি ছিল না। ফলে পুরো ক্যাম্পাস খোলা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে।”
আরেক শিক্ষার্থী নাসরুল্লাহ বলেন, “ক্যাম্পাসের এমন বেহাল অবস্থা দেখে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আমাদের কিছুই করার নেই। নিয়মিতই বহিরাগতরা আসে, কিন্তু প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। উৎসবের দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়।”
এছাড়া, বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, বহিরাগতদের কারণে হলের ফুল ছেঁড়া ও পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে এদিন অনেক শিক্ষার্থীর ফোন ও মানিব্যাগ চুরির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
ঢাকা/সৌরভ/জান্নাত