ঢাকা     সোমবার   ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ||  চৈত্র ৩০ ১৪৩২ || ২৫ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রে জিনিয়াস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী

সিলেট প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ১৩ এপ্রিল ২০২৬  
যুক্তরাষ্ট্রে জিনিয়াস অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী

মো. ওয়াশিউন আলিম ও রোহিত সরকার

আন্তর্জাতিক পরিবেশভিত্তিক প্রতিযোগিতা ‘জিনিয়াস অলিম্পিয়াড’ (GENIUS Olympiad)-এর চূড়ান্ত পর্বে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন সিলেট ও নাটোরের দুই কিশোর শিক্ষার্থী মো. ওয়াশিউন আলিম ও রোহিত সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন তারা।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ স্কুল পর্যায়ের এই আয়োজন পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিল্প, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল লেখালেখিসহ মোট নয়টি ক্যাটাগরিতে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন ও বাস্তবসম্মত সমাধান উপস্থাপনই এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য।

আরো পড়ুন:

এ বছর বিজ্ঞান ক্যাটাগরিতে ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’ (ReWater-DC Evo) নামের একটি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াশিউন ও রোহিত। আগামী ৮ থেকে ১২ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রচেস্টারে অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতাটি।

আয়োজক সূত্র জানায়, চলতি বছর ৭৪টি দেশের ৩ হাজার ২৫৪টি প্রকল্প জমা পড়ে। সেখান থেকে বাছাই করে ৮৯২টি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয়, যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের এই দলটি।

চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রচেস্টার ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (RIT) পড়াশোনার জন্য বছরে ১০ হাজার ডলার করে শিক্ষাবৃত্তিও পেয়েছেন তারা। চার বছরে মোট বৃত্তির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪০ হাজার মার্কিন ডলার।

দুই কিশোর গবেষক জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে ডাটা সেন্টারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এসব ডাটা সেন্টারের কুলিং সিস্টেমে বিপুল পরিমাণ পানি ব্যবহারের কারণে পানির সংকট ও দূষণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

রোহিত সরকার বলেন, “আধুনিক ডাটা সেন্টার সার্বক্ষণিক চালু থাকায় উচ্চ ক্ষমতার সার্ভার থেকে উৎপন্ন তাপ কমাতে পানি ব্যবহার করতে হয়। ব্যবহারের পর এই পানি দূষিত হয়ে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।”

ওয়াশিউন আলিম বলেন, “পৃথিবী একটি ক্লোজড সিস্টেম, এক দেশের পরিবেশগত ক্ষতি অন্য দেশেও প্রভাব ফেলে। তাই এই সমস্যা সমাধানে কাজ করা জরুরি।”

তাদের উদ্ভাবিত ‘রি-ওয়াটার ডিসি ইভো’ মূলত ডাটা সেন্টারের দূষিত পানি পুনর্ব্যবহারের একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। তাদের দাবি, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৯৫ শতাংশ পানি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে তিন ধাপে পানি শোধন করা হয়, প্রথমে বিদ্যুতের সাহায্যে ভারী ধাতু ও ময়লা আলাদা করা হয়, এরপর সূর্যের আলো ব্যবহার করে ক্ষতিকর জৈব পদার্থ ভেঙে ফেলা হয় এবং শেষ ধাপে বিশেষ কার্বন উপাদানের মাধ্যমে পানির লবণ দূর করা হয়।
তাদের ভাষ্য, পুরো প্রক্রিয়াটি রাসায়নিকমুক্ত, তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল এবং সৌরশক্তিচালিত—যা পরিবেশের জন্য নিরাপদ।

অল্প বয়সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বসিত দুই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। তবে যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত, থাকা ও নিবন্ধন ফি নিয়ে রয়েছে আর্থিক দুশ্চিন্তা।

রোহিত সরকার জানান, ভিসা, ফ্লাইট ও রেজিস্ট্রেশন ফিসহ অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় রয়েছে। শুধু নিবন্ধন ফিই প্রত্যেকের জন্য ৬০০ ডলার।

তিনি আরো বলেন, “গবেষণার জন্য ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় উপকরণ পাওয়া এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।”

ওয়াশিউন আলিম বলেন, “এখনো সরকারি কোনো সংস্থা থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আইসিটি বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাবে বলে আমরা আশাবাদী।”

রোহিতের বাবা লিটন সরকার বলেন, “একজন বাবা হিসেবে তিনি গর্বিত, তবে মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই খরচ বহন করা কঠিন।”

ওয়াশিউনের বাবা খোদাদাদ মো. শাহরিয়ার বলেন, “ছেলের এই অর্জন গর্বের। আমি চাই, আমার ছেলে মানবকল্যাণে কাজ করে পৃথিবীকে আরো ভালো জায়গা হিসেবে গড়ে তুলুক।”

ঢাকা/রাহাত/জান্নাত

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়