ঢাকা     বুধবার   ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ||  বৈশাখ ২ ১৪৩৩ || ২৭ শাওয়াল ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

আওয়ামী লীগ সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সর্বনাশ ডেকে এনেছিল: স্পিকার

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৫৭, ১৫ এপ্রিল ২০২৬   আপডেট: ২০:৫৮, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকার টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে সর্বনাশ ডেকে এনেছিল: স্পিকার

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বাংলাদেশের নেতৃত্বই টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ‘সর্বনাশ ডেকে এনেছিল’ বলে মন্তব্য করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী হিসেবে আমার কিঞ্চিত অভিজ্ঞতা আছে। টিপাইমুখ বাঁধ, এটি বাংলাদেশেরই পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুস সামাদ আজাদের অনুরোধে চালু করেছিল ভারত। তখন আমরাই নিজেদের সর্বনাশ ডেকে এনেছিলাম।

আরো পড়ুন:

আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের বিএনপি দলীয় সদস্য আব্দুল মালিকের এক সম্পূরক প্রশ্নের পর স্পিকার এ মন্তব্য করেন। এর আগে আব্দুল মালিক তার প্রশ্নে টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে দেশের সংকট তুলে ধরে সরকারের অবস্থান জানতে চান। জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মিন্টু বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন। এরপর স্পিকার নিজের অভিজ্ঞতার কথা টেনে টিপাইমুখ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সিলেটের বন্যা ও খরার দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন আব্দুল মালিক। তিনি বলেন, কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি পানি ও বরাক নদীর উজানের প্রবাহে সিলেটের রাস্তাঘাটসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়। আবার খরার মৌসুমে পানির অভাবে মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। সিলেটবাসীর পক্ষ থেকে তিনি জানতে চান, টিপাইমুখ বাঁধের বিষয়ে সরকারের কী পরিকল্পনা আছে এবং পাহাড়ি পানির চাপ ঠেকাতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

জবাবে পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, টিপাইমুখ যে ব্যাপারটা মাননীয় সংসদ সদস্য বলছেন সেটা আমি আমাদের মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলব, যাতে করে ভবিষ্যতে এই সমস্যাটা সমাধান করা যায়।

পরিবেশ রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি

পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। 

আজ জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আফজাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বায়ু দূষণ রোধে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। নভেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ১১টি অবৈধ ইটভাটা সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে অদ্যাবধি ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫টি মামলা এবং ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, শব্দ দূষণ রোধে ৩২টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পানি দূষণ রোধে শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে ইটিপি স্থাপনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার পক্ষে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন একটি ধীরগতির প্রক্রিয়া, তাই এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদী ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ‘জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ)’ এবং ‘জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি)’ প্রস্তুত করা হয়েছে। 

তিনি আরো জানান, ১৮০ দিনের স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার আওতায় সারা দেশে বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় ম্যানগ্রোভ বনায়ন এবং এক কোটি ৫০ লাখ গাছের চারা রোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কার্বন ক্রেডিট বাণিজ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ (বিসিডিপি)’ গঠন করা হয়েছে।
 

ঢাকা/এএএম//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়