ঢাকা     সোমবার   ১১ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৮ ১৪৩৩ || ২৪ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

২০২৫ সালে ব্র্যাকের সেবা পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৫, ১১ মে ২০২৬  
২০২৫ সালে ব্র্যাকের সেবা পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ

২০২৫ সালে দেশের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ ব্র্যাকের বিভিন্ন সেবা ও সহায়তার আওতায় এসেছে, যা বাংলাদেশের প্রতি ৭ জনে ১ জন মানুষের সমান। এছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখ নারী এবং ২ লাখ ২৩ হাজারের বেশি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ব্র্যাকের সহায়তা পেয়েছেন।

সোমবার (১১ মে) দুপুরে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানানো হয়।

আরো পড়ুন:

ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ বার্ষিক প্রতিবেদনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেন বলেন, “ব্র্যাক যাদের কাছে সরাসরি পৌঁছেছে, তাদের প্রতি ৩ জনে ২ জন নারী। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক সেবায় অন্তর্ভুক্তি, দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন (ওয়াশ), জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, অভিবাসন এবং দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাক্ষেত্রে এসব সহায়তা দেওয়া হয়েছে।”

ব্র্যাকের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ, আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে ব্র্যাক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় ঋণ সহায়তার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং কৃষি সহায়তাও জোরদার করা হয়েছে। দারিদ্র্য বিমোচনে ৫ বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার সম্পদ দেওয়া হয়েছে। ৩ লাখ ১২ হাজার অতি দরিদ্র পরিবার অতি দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেয়েছেন। মোট ঋণ সহায়তার পরিমাণ ২৯ হাজার কোটি টাকা থেকে সাড়ে ৪৮ হাজার কোটি টাকা হয়েছে।

বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশনায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে জানানো হয়, কমিউনিটি-ভিত্তিক স্বাস্থ্য সেবার মাধ্যমে মা ও শিশু স্বাস্থ্য, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া এবং অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় কাজ করছে ব্র্যাক। ৫ বছরে ২১ লাখ মা নিরাপদ প্রসবসেবা পেয়েছেন। ৩৫ লাখ মানুষের অসংক্রামক ব্যাধি, প্রতিবন্ধিতা ও চোখের সমস্যা শনাক্ত হয়েছে।১০ লাখের বেশি যক্ষ্মা রোগী শনাক্ত ও চিকিৎসার আওতায় এসেছেন।

অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্র্যাকের শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে লাখো শিশু ও কিশোর-কিশোরী শিক্ষার সুযোগ পেয়েছে। প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুদের জন্য শিক্ষা, পুষ্টি ও মানসিক সহায়তা সমন্বিতভাবে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। ৫ বছরে ৬ লাখ ৪৪ হাজার শিক্ষার্থী ব্র্যাকের শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে, যাদের ৫৬ শতাংশ ছাত্রী দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশ বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৭৪০টি স্কুলে ৮ লাখ ৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও হাত ধোয়ার সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয় ব্র্যাক জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি, নিরাপদ পানি, অভিযোজন ক্লিনিক এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১১ লাখ দুর্যোগকবলিত পরিবার মানবিক সহায়তা পেয়েছে। ১ লাখ ৩৩ হাজার পরিবার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় উপযুক্ত সমাধান পেয়েছেন। ১ লাখ ৫ হাজার ৭২৯ জন দুর্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষ জলবায়ুসহিষ্ণু প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদ পানি পেয়েছেন।

নারী, কিশোরী ও তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ, আইনি সহায়তা এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে ব্র্যাকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। ৫ বছরে ৯৮ হাজার ৬০০ নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন এবং আইনি সহায়তা পেয়েছেন। ১ লাখ ২ হাজার কিশোরী আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং লক্ষ্য অর্জনে উদ্বুদ্ধকরণ সহায়তা লাভ করেছেন। ২০২৫ সালে অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যক্ষ উদ্যোগে ২ হাজার ২৩৭টি বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে।

এ সময় আগামী পাঁচ বছরে কি কাজ করবে ব্র্যাক তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, আগামী পাঁচ বছরে নারী ও যুবসমাজকে কেন্দ্র করে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেবে ব্র্যাক।

সমন্বিত উন্নয়নের ৭টি অগ্রাধিকারের মাধ্যমে ১০ লাখ কর্মসৃজন, ১৯ লাখ শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি পূরণে সহায়তা পাবে, ২ কোটি মানুষ আর্থিক সেবার আওতায় আসবে, প্রতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে, চর, হাওর, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও উপকূলীয় এলাকায় ২০০টি নতুন আর্থিক সেবাকেন্দ্র চালু করা হবে, বছরে ৭০ হাজার পরিবার আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করবে (শহরে ২০ ও গ্রামে ৫০ হাজার), শহরাঞ্চলে আল্ট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন কর্মসূচির কার্যক্রম ১৭ জেলা থেকে ৩০ জেলায় সম্প্রসারিত হবে, জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ ২০টি জেলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, ১২ লাখ ৫০ হাজার নারী কৃষকের কাছে সহায়তা পৌঁছাবে, ২৬৮টি উপজেলায় ৬৫ হাজার কিশোরী প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবে, ২৬৮টি লিগ্যাল এইড ক্লিনিকের মাধ্যমে আইনি সেবা আরো সহজলভ্য করা হবে, ৩৯ জেলায় স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ, ঊর্ধ্বতন পরিচালক (অ্যাডভোকেসি, কমিউনিকেশনস অ্যান্ড এনগেজমেন্ট) কেএএম মোর্শেদ, পরিচালক (লিগ্যাল, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট, সেফগার্ডিং অ্যান্ড সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স) আফম শহিদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও পরিচালকেরা।

ঢাকা/রায়হান/সাইফ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়