ভ্যাকসিন সংকট
সুন্দরগঞ্জে ৫ দিনের ব্যবধানে জলাতঙ্কে তিন মৃত্যু
গাইবান্ধা প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের অভাবে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো উপজেলায়।
গত ২২ এপ্রিল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি এবং পার্শ্ববর্তী ছাপরহাটী ইউনিয়নের মন্ডলের হাট গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছিলেন ওই তিনজন। ওই কুকুরের কামড়ে দুই শিশু ও দুই নারীসহ আরো ১৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কেউ কেউ ভ্যাকসিন নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। তিনজনের মৃত্যুতে আহতদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ২২ এপ্রিল একটি পাগলা কুকুরের আক্রমণে ১৬ জন আহত হন। জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার ১৬ দিন পর ৮ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রতনেশ্বর কুমার। ৬ মে মারা যান কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫) ও কঞ্চিবাড়ি গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আফরোজা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায়।
আহতদের পরিবারের অভিযোগ, ক্লিনিক, হাসপাতাল সব জায়গা ঘুরে কোথাও ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। বাইরের ফার্মেসি থেকে চড়া দামে ভ্যাকসিন কিনতে হয়েছে। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিন দিতে না পারায় তিনজন মারা গেছেন।
নিহত রতনেশ্বর কুমারের পরিবার জানিয়েছে, গত ২২ এপ্রিল কাজে যাওয়ার সময় রাস্তায় একটি বেওয়ারিশ পাগলা কুকুরের আক্রমণে গুরুতর আহত হন রতনেশ্বর। প্রথমে তাকে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পাননি তিনি। পরে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে যান রতনেশ্বর। সেখানে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি। শুরু হয় এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হওয়ার পর চড়া দামে একটি ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে রতনেশ্বরের পরিবার। ততক্ষণে তার পুরো শরীর র্যাবিস ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
রতনেশ্বরের ভাই রবিন্দ্র কুমার বলেছেন, “কুকুর কামড়ানোর পরপরই ভাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ক্ষতস্থানগুলো ড্রেসিংয়ের পর জানানো হয় ভ্যাকসিন নেই। এরপর জেলা হাসপাতালে ছুটে যাই, সেখানেও একই কথা। বাধ্য হয়ে ওষুধের দোকান, বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। কিন্তু কোথাও ভ্যাকসিন মেলেনি।”
মন্ডলেরহাট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, “মানুষ হাসপাতালে ছুটে যায়, কিন্তু ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না। এখন তিনজন মারা গেছে, আমরা ভয় আর আতঙ্কে আছি।”
কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তাজরুল ইসলাম জানান, জলাতঙ্কে তার এলাকায় দুজন মারা গেছেন। তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন না থাকায় সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা যায়নি। সরকারি হাসপাতালে যদি পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন থাকত, তাহলে অকালে দুটি মানুষের প্রাণ যেত না।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দিবাকর বসাক বলেছেন, “আমাদের এখানে শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে শুধু একজন রোগী এসেছিলেন। এতদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো ভ্যাকসিন ছিল না। চলতি মাসে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন কেনার জন্য ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। এখন থেকে ভ্যাকসিন নিতে এলে কেউ ফেরত যাবে না।”
ঢাকা/মাসুম/রফিক
লাইফ সাপোর্টে অভিনেতা আতাউর রহমান