বৃষ্টির দিনে মিরাজ দিলেন স্বস্তি
প্রথমে মুষুলধারে বৃষ্টি। এরপর আলোকস্বল্পতা। ঢাকা টেস্টে বাধা সৃষ্টি হলো দুইবার। তাতে খেলায় বিঘ্ন হলো। পাকিস্তান গতকালই জানিয়েছিল, ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে বোঝা যাবে কার হাতে থাকবে নাটাই। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে তেমনটা স্পষ্ট হয়নি।
তবে বাংলাদেশের জন্য সুখবর। গতকাল দ্বিতীয় দিন শেষে যে অস্বস্তি ছিল, তা মিলিয়ে গেছে আজ। রূপকার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ৫ উইকেটে বাংলাদেশ ৪১৩ রানের পুঁজি নিয়ে লিডও পেয়েছে। সফরকারীদের ৩৮৬ রানে আটকে দিয়ে বাংলাদেশ ২৭ রানের লিড পায়।
পরে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে বিনা উইকেটে ৭ রান তোলে স্বাগতিকরা। হাতে ১০ উইকেট রেখে ৩৪ রানের লিড বাংলাদেশ শিবিরে ফিরিয়েছে স্বস্তি। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় এবং সব মিলিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে ১৪তম বার ৫ উইকেট পেয়েছেন মিরাজ।
গতকাল দ্বিতীয় দিনের একমাত্র সাফল্য এসেছিল তার হাত ধরে। এলবিডব্লিউ করেছিলেন ইমাম উল হককে। আজ পাকিস্তান শিবিরে তার আঘাত করা শুরু সৌদ শাকিলকে। পরে আব্দুল্লাহ ফজলের উইকেট নেন। পাকিস্তানের লেজের দুই ব্যাটসশ্যান নোমান আলী ও শাহীন শাহ আফ্রিদিকে ফিরিয়ে মিরাজ পূর্ণ করেন ফাইফার।
১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে পাকিস্তান। দুই দলেরই লক্ষ্য ছিল প্রথম সেশন নিজেদের করে নেওয়া। পাকিস্তান এদিন পারেনি আগের দিনের ছন্দ ধরে রাখতে। ৪ উইকেট হারায় তারা। আজান আজওয়াইজ সেঞ্চুরি পেলেও বেশিক্ষণ টেকেননি। শান মাসুদ হতাশ করে ফেরেন। দুটি উইকেটই নেন তাসকিন। ডানহাতি পেসারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন আজান। শান পয়েন্টে ক্যাচ দেন সাদমানের হাতে। এরপর মিরাজ সৌদ শাকিল ও আব্দুল্লাহ ফজলকে ফেরান।
তাসকিন আরও একটি উইকেট পেতে পারতেন। কিন্তু নো বলের কারণে সালমান আগাকে আউট করেও সফলতা পাননি। ৭২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান পিছিয়ে পড়ে। বিরতি গিয়ে ফেরার পর পাকিস্তান প্রতিরোধ পায় রিজওয়ান ও সালমানের ব্যাটে। শতরানের বেশি জুটিতে তারা দলকে নিয়ে যান নিরাপদ জায়গায়। দুজনই তুলে নেন ফিফটি। এগিয়ে যাচ্ছিলেন সেঞ্চুরির পথে।
কিন্তু তাইজুল জানতেন এই জুটি ভাঙার রসদ। অফস্টাম্পের বাইরে চাপে রেখে রিজওয়ানকে বড় শট খেলার আমন্ত্রণ জানান তিনি। উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান ভুল করে বসেন সেখানেই। এগিয়ে এসে শট খেলতে গিয়ে টাইমিং মিস করেন। ৫৯ রানে আউট হন তিনি। এরপর বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকেন।
বৃষ্টির বাধার পর খেলা শুরু হলে পাকিস্তানকে টিকতে দেয়নি বাংলাদেশ। নাহিদ রানা প্রথম উইকেট পান সালমান আগাকে ফিরিয়ে। এরপর মিরাজ টপাটপ আরও দুই উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন ফাইনাল। পাকিস্তান শিবিরের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তাইজুল। বোল্ড করেন হাসান আলীকে।
সামান্য লিড নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশের দুই ওপেনার ছিলেন চনমনে। তবে একটি হারালেই বিপদ হতে পারে সেই ধারণা ছিল। সেজন্য বাড়তি সতর্কও ছিলেন তারা। ১১ বল খেলে দলের বিপদ বাড়াননি তারা। অবিচ্ছন্ন জুটি নিয়েই শেষ করেছেন দিনের খেলা।
আগামীকাল ১৫ মিনিট আগে শুরু হবে দিনের খেলা। লম্বা সেশন, লম্বা দিন বাংলাদেশের অপেক্ষায়। ম্যাচটা কার ভাগ্যে যাবে নিশ্চিত হয়ে যাবে কালই।
ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল