তারেক রহমান গণতন্ত্র গলা টিপে হত্যা করছেন: আসিফ মাহমুদ
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি গণতন্ত্রের কথা বলে বিগত ১৮ বছর রাজনীতি করেছে। কিন্তু তারেক রহমান ক্ষমতায় বসেই গণতন্ত্র গলা টিপে হত্যা করছেন।
রবিবার (১০ মে) বিকালে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘আমরা আগেও নির্বাচনের নিরপেক্ষতার দাবি জানিয়েছি। প্রশাসক হিসেবে যারা নিয়োজিত আছেন, তারা সেই পদে থেকে নির্বাচন করতে পারবেন না। তারা যদি অংশগ্রহণ করেন, তবে নির্বাচন বিতর্কিত ও একপাক্ষিক হবে এবং কোনো ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে না।’’
এসময় তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘‘আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিনদিন অবনতি হচ্ছে। বিগত সরকারের সময় আমরা বারবার শুনেছি যে, নির্বাচিত সরকার এলে সব সমস্যার সমাধান হবে এবং পরিস্থিতির উন্নতি হবে। বর্তমান সরকার আসার পরও বারবার শুনছি যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো আছে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি ভিন্ন। জনগণের নিরাপত্তায় এক ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার অবনতি আমরা সারা দেশেই দেখতে পাচ্ছি।’’
সীমান্ত হত্যা প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘ইদানিং সীমান্ত হত্যা আবার হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। সরকারকে সীমান্ত হত্যা রোধে শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে। সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারত সরকারের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে। বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে সীমান্তে কেন হত্যা বাড়ছে, সরকারকে সেই জবাবদিহি চাইতে হবে।’’
‘‘সরকার মুখে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বললেও সীমান্ত হত্যার সময় তারা কথা বলে না; কোনো পদক্ষেপ নেয় না। তখন আমাদের মনে হয়, আসলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এটি তাদের কেবল মুখের বুলি। কাজের ক্ষেত্রে আমরা এর প্রতিফলন দেখতে পাই না,’’ বলেন তিনি।
এনসিপির মুখপাত্র বলেন, ‘‘শেখ হাসিনা ভারতে অবরুদ্ধ আছেন। তিনি যেহেতু ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাই ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ, তাকে এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দিতে। বাকিটা আমরা আমাদের টেরিটোরিতে দেখে নেব।’’
হামের প্রাদুর্ভাব প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘‘দেশে হামের যে প্রাদুর্ভাব, তা দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। আমরা মনে করছি, খুব দ্রুত একে জাতীয় সংকট হিসেবে চিহ্নিত করে মোকাবিলায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এই সময়ে কার দোষ বেশি বা কার কম, সেটি বড় কথা নয়, বরং সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। হাম বৃদ্ধির পেছনে কাদের গাফিলতি বা অনিয়ম জড়িত আছে, তাও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।’’
‘‘আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু সরকার এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট রূপরেখা বা সময়সীমা দেয়নি। নির্বাচনটি কীভাবে ও কোন সময়ে হবে, তার কোনো টাইমলাইন আমাদের দেওয়া হয়নি। সিটি কর্পোরেশন বা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন কবে হবে, তাও জানানো হয়নি। তারা বলছেন ‘অতি দ্রুত’, কিন্তু এই ‘অতি দ্রুত’ পাঁচ বছরও হতে পারে, আবার তিন মাসও হতে পারে। আমরা স্পষ্ট সময়সীমা দাবি করছি। আমরা দেখছি, যারা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন, তারা পদে থেকেই ভোট চাচ্ছেন। প্রশাসনের কাজ নগর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, কিন্তু তারা পোস্টার দিয়ে পুরো নগরের দেয়াল ভরে ফেলেছেন,’’ অভিযোগ করেন এনসিপির মুখপাত্র।
ঢাকা/রায়হান//