ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা, নিহতদের দাফন সম্পন্ন 

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৩৬, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ২১:৫৩, ১০ মে ২০২৬
গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে হত্যা, নিহতদের দাফন সম্পন্ন 

রবিবার ১০ মে, ঘড়ির কাটায় ভোর ৬টা। সকালের নীরবতা ভেঙে দুটি লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স পাঁচটি মরদেহ নিয়ে পৌঁছায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তরপাড়া ফকিরবাড়ি। একে একে মরদেহগুলো নামানো হয়। এমন এক বিষণ্ন সকালে নিহতের পরিবার ও স্বজনদের আহাজাড়িতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। 

শনিবার (৯ মে) গাজীপুরের কাপাসিয়ায় এক পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিহতরা হলেন, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩৫), ছেলে রসুল মোল্লা (১৯), শারমিনের তিন মেয়ে মীম আক্তার ( ১৪), হাবিবা (১০), ও ফারিয়া (২)। গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মরদেহ গোপালগঞ্জে নিহতদের গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়। 

আজ রবিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে ফকিরবাড়ির নিকটবর্তী সড়কে দুটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে আছে। পাশের মেহগনিবাগানে পৃথক দুটি স্থানে মশারি টানিয়ে নারী ও পুরুষের মরদেহ গোসল করানো হচ্ছে। নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে আসছেন আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। একসঙ্গে একই পরিবারের পাঁচ জনের মৃত্যুর এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা এর আগে শোনেননি তারা। এমন ঘটনায় গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। 

গোসল শেষে বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে সারিবদ্ধভাবে পাঁচটি কবরে নিহতদের দাফন করা হয়।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা বলেছেন, এ ঘটনা নিহত শারমিনের স্বামী ফোরকান একা ঘটাতে পারে না। এর সাথে অন্যরা জড়িত থাকতে পারে। তাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে শাস্তি দিতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর কাউকে দেখতে না হয়।

কান্না থামছিল না শারমিনের মা ফিরোজা বেগমের। বড় বোন ফাতেমা বেগম মাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘‘শারমিন ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর আমার বাসায় বেড়াতে যেত। তখন সে প্রায়ই স্বামীর আচরণ নিয়ে কষ্টের কথা বলত। ফোরকান অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন। শারমিনের হাতে মুঠোফোন পর্যন্ত রাখতে দিতেন না। সংসারে অশান্তি থাকলেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শারমিন সব কিছু সহ্য করে গেছে।’’

নিহত শারমিনের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা বলেন, ‘‘এক বছর ধরে ফোরকান আমার মেয়েকে নানা নির্যাতন ও যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিল। এ কারণে আমার মেয়ে বাড়িতে চলে এসেছিল। আমরা সন্দেহ করেছিলাম ফোরকান পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়েছে। ও নেশা করতো। ও আমার ছেলে, মেয়ে ও নাতনীদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে হত্যা করেছে। আমি ফোরকানসহ এ ঘটনার সাথে জড়িত সবার ফাঁসি চাই।’’

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি গাজীপুরের হলেও এটি একটি বড় ঘটনা।  তাই আসামিকে ধরতে পুলিশ কাজ করছে। আশাকরি, দ্রুততম সময়ে ঘাতক ফোরকান মোল্লাসহ এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। 

এ ঘটনায় শারমিনের স্বামী ফোরকান মিয়ার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজনকে আসামি করে গাজীপুরের কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন শাহাদাত হোসেন। ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক। ঘটনার পরপরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

ঢাকা/বাদল//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়