ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আ. লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২৬, ১০ মে ২০২৬  
ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আটক আ. লীগ নেতাকে জিম্মি করে চাঁদাবাজি 

ঝিনাইদহের মহেশপুরে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদুল ইসলামকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে আটকের পর তাকে জিম্মি করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাজ্জাদুল ইসলামের স্ত্রী বাদি হয়ে তিন জনের নামে মহেশপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পরে তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রবিবার (১০ মে) মহেশপুর থানা পুলিশ তিন জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলেন, মহেশপুরের খালিশপুর গ্রামের মাহবুবুর রহমান, একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও মহেশপুরের কুরিপোল গ্রামের মো. ফিরোজ।

এদিকে পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় ভিকটিমের এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ মে মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম খালিশপুর বাজারের পাশে একটি বাড়িতে যান। তিনি ওই বাড়ির গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। সে সময় ওই নারীর চিৎকারে স্থানীয় দুই যুবক এসে সাজ্জাদুলকে আটক করে। পরে ভিকটিমের স্বামী এবং দুই যুবক অর্থের বিনিময়ে ঘটনা চেপে রাখতে সম্মত হন। এ জন্য সাজ্জাদুল এক লাখ টাকা দেন। পরে তারা সাজ্জাদুলকে জিম্মি করে আরও টাকা দাবি করে। তখন তিনি দুই লাখ টাকার একটি চেক দেন।

এ দিকে গত ৯ মে সাজ্জাদুলকে আসামি করে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন ওই নারী। মামলার পর মহেশপুর থানা পুলিশ সাজ্জাদুলকে আটক করে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে একই দিন সাজ্জাদুলের স্ত্রী তাহমিনা শম্পা বাদি হয়ে তার স্বামীকে মারপিটের ভয় দেখিয়ে চাঁদাদাবি ও আদায়ের অভিযোগে থানায় মামলা করেন।

তাহমিনা শম্পা গণমাধ্যমকে জানান, গত ৫ মে একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা নিয়ে তার স্বামীকে ওই বাড়িতে ডেকে নেয় অভিযোগকারী নারী। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য বাড়িতে ডেকে নিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। তার কাছ থেকে ব্যাংক চেক লিখে নেওয়া হয়েছে। ৯ মে যখন সেই চেক আনতে গেছে তখন প্রতারকরা সাজ্জাদুলকে পুলিশে ধরিয়ে দিয়েছে। 

তাহমিনা শম্পা আরও জানান, কিছুদিন আগে ওই নারীর বাড়ি থেকে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনায় ওই নারী কারাগারেও ছিল।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠার পরে ভিকটিম নারী, তার স্বামী ও স্বামীর সহযোগীদের সঙ্গে সাজ্জাদুল ইসলাম কয়েক দফা মীমাংসার চেষ্টা করেন। গোপনে একাধিকবার সালিস হয়েছে বলেও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে। 

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমি এটুকুই বলতে পারি যে, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তাধীন বিষয়ে আমার কথা বলাটা সমীচীন নয়।’’

পরে মহেশপুর থানার ওসি মেহেদি হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা অভিযুক্তকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছি। ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনাটি যেমন সত্য, অভিযুক্ত সাজ্জাদুল ইসলামকে জিম্মি করে টাকা আদায় ও চেক নেয়ার ঘটনাও সত্য বলে আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। চাঁদাবাজি ও আদায়ের অভিযোগের পরে তিন জনকে আটকও করেছি। পুলিশ পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।’’

ঢাকা/শাহরিয়ার//

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়