খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়া সেই ষাঁড় এবার বেচতে চান সোহাগ
পটুয়াখালী (উপকূল) প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম
গত বছর কোরবানির সময় এই ষাঁড়টি সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়েছিলেন পটুয়াখালীর পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের সোহাগ মৃধা। ছবি: রাইজিংবিডি।
‘কালো মানিক।’ ষাঁড়টির দৈর্ঘ্য ১২ ফুট ও উচ্চতা ৬ ফুট। ফ্রিজিয়ান জাতের এই ষাঁড়ের ওজন এখন ৪০ মণের বেশি। এবার কোরবানির হাটে কালো মানিককে তুলতে চান এর মালিক সোহাগ মৃধা। দাম হাঁকছেন ২২ লাখ টাকা।
গত বছর কোরবানির সময় এই ষাঁড়টিকে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়েছিলেন সোহাগ। অবশ্য ষাঁড়টি তিনি গ্রহণ করে আবার ফেরত দেন। গরুটি বিক্রি করে মোহাগের পরিবারের স্বচ্ছলতার কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি।
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের সোহাগ মৃধা ২০১৮ সালে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে ১ লাখ ৩৭ হাজার টাকায় একটি গাভি ক্রয় করেন। ওই বছর গাভিটি একটি বাছুরের জন্ম দেয়। দীর্ঘদিন সন্তানের মতো লালন পালনে বাছুরটির মায়ার পড়ে যান সোহাগ। ভালোবেসে নাম রাখেন ‘কালো মানিক’।
ছোট থেকেই বিএনপিকে ভালোবাসেন সোহাগ। তাই গত বছরের ৫ জুন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে ষাঁড়টি খালেদা জিয়াকে উপহার দেওয়ার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। বেগম জিয়া উপহার হিসেবে ষাঁড়টি গ্রহণের পর তার ছেলে জিসান মৃধাকে (৬) ফিরিয়ে দিয়ে আর্থিক স্বচ্ছলতার কাজে লাগাতে বলেন। তারপরও গত বছর ষাঁড়টি বিক্রি করেননি তিনি। তবে এ বছর ষাঁড়টি বিক্রি করতে চান সোহাগ।
তিনি বলেন, “গত বছর ষাঁড়টি খালেদা জিয়াকে উপহার দিয়েছিলাম। তিনি ষাঁড়টি গ্রহণের পর আবার আমার ছেলে জিসানকে ফেরত দেন এবং আমাদের পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার কাজে ব্যবহার করতে বলেন। এসময় আমার মা আমার নেত্রী আমাকে ও আমার ছেলেকে ঈদ উপহার দিয়েছিলেন। এ বছর আমি ষাঁড়টি বিক্রি করতে চাই।”
খালেদা জিয়া উপহার হিসেবে গ্রহণ করে আবার ফেরত দেন ষাড়টি। সোহাগ মৃধাকে তার ছেলে জিসানের বেড়ে ওঠার জন্য ষাড়টি বিক্রির টাকা ব্যয় করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। ছবি: রাইজিংবিডি।
“কালো মানিকের ওজন এখন ৪০ মণের বেশি। ২২ লাখ টাকা দাম চাচ্ছি। কেউ যদি চায় বাড়িতে বসেও নিতে পারবে৷ সে ক্ষেত্রে আমার মোবাইল নম্বরে (০১৯১৩০৬৭১৪১) যোগাযোগ করতে পারেন। তবে স্থানীয়ভাবে ন্যায্য দাম না পেলে ষাঁড়টি ঢাকার হাটে তোলার পরিকল্পনা করছি।”
ওই এলাকার কৃষক আরিফ মৃধা বলেন, দীর্ঘ সাতটি বছর এই ষাঁড়টি লালন-পালনে সোহাগ মৃধা ব্যাপক কষ্ট করেছেন। আমরা আশা করছি, সে তার কাঙ্ক্ষিত মূল্যে এটি বিক্রি করতে পারবেন এবং ভালো লাভবান হবেন। ভবিষ্যতে আমাদেরও এই ধরনের ষাঁড় পালনের ইচ্ছা রয়েছে।”
এবার কালো মানিকের দাম হাঁকা হচ্ছে ২২ লাখ টাকা। ছবি: রাইজিংবিডি।
আরেক বাসিন্দা নুরুজ্জামান বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এই ষাঁড়টি গ্রহণ করেছিলেন। আমরাও সোহাগের সঙ্গে ঢাকায় গিয়েছিলাম। সোহাগের এভাবে ষাঁড় পালন এবং উপহার দেওয়া দেখে আমারও ব্যাপক ইচ্ছে রয়েছে আগামীতে আমি একটি গরুর খামার করব। আমরা প্রত্যাশা করছি সোহাগ ন্যায্য দামে তার ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারবেন।”
পটুয়াখালী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “খামারি সোহাগ মৃধাকে ষাঁড়টি পালনের শুরু থেকেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে নানা পরামর্শ ও সহযোগিতা করা হয়েছে। ষাঁড়টির প্রতি আমাদের আলাদা নজর রয়েছে। এটি বিক্রির জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
ঢাকা/ইমরান/রাসেল