ঢাকা     রোববার   ১০ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২৭ ১৪৩৩ || ২৩ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

মা দিবসে একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন মা

শরিয়তপুর প্রতিনিধি || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৮, ১০ মে ২০২৬   আপডেট: ২১:৫২, ১০ মে ২০২৬
মা দিবসে একমাত্র সন্তানকে বাঁচাতে কিডনি দিলেন মা

বাঁয়ে নাসিমা সুলতানা, ডানে একমাত্র ছেলে নাসিম জাহান আকাশ।

মায়ের ভালোবাসার কাছে পৃথিবীর সব ঐশ্বর্য তুচ্ছ— শাশ্বত এই সত্য আবারও প্রমাণ করলেন শরীয়তপুরের এক মহীয়সী মা। মুমূর্ষু সন্তানের জীবন বাঁচাতে একটি কিডনি দান করে আত্মত্যাগের অনন্য নজির স্থাপন করেছেন তিনি। 

শরীয়তপুরের জাজিরা পৌরসভার উত্তর বাইকশা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসিমা সুলতানা একমাত্র ছেলে নাসিম জাহান আকাশের জীবন বাঁচাতে একটি কিডনি দান করেন।

আরো পড়ুন:

রবিবার (১০ মে) বিশ্ব মা দিবসে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মা ও ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নয় মাস আগে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন আকাশ। উন্নত চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, আকাশের দুটি কিডনি বিকল হয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই শুরু হয় যন্ত্রণাদায়ক ডায়ালাইসিস আর বেঁচে থাকার অনিশ্চিত লড়াই। ছেলের নিদারুণ কষ্ট সইতে না পেরে মা নাসিমা সুলতানা সিদ্ধান্ত নেন, নিজের কিডনি দিয়ে সন্তানকে নতুন জীবন দেবেন। 

​ঢাকার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে আজ এই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা। অপারেশন পরিচালনা করছেন প্রখ্যাত ইউরোলজিস্ট ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. কামরুল ইসলাম।

​আকাশের বড় বোন বৃষ্টি অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেন, ‘‘পৃথিবীতে মায়ের মতো নিঃস্বার্থ কেউ নেই। মা দিবসে আমার ভাই তার মার কাছ থেকে জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার পাচ্ছে। মা নিজের শরীরের অংশ দিয়ে ভাইকে বাঁচিয়ে তুলছেন। আমাদের পরিবারের কাছে আজকের দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’’

​জাজিরা উপজেলার শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘নাসিমা ম্যাডাম সবসময়ই একজন মানবিক মানুষ। কিন্তু আজ তিনি যা করলেন, তা মাতৃত্বের এক অমর কাব্য হয়ে থাকবে। তিনি আমাদের সবার গর্ব।’’

​স্থানীয় সমাজকর্মী জাহিদ হাসান জানান, মা দিবসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা যখন নানা আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত, তখন এই মা বাস্তবে ভালোবাসার গভীরতা প্রমাণ করলেন। এই ঘটনা বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক বড় শিক্ষা।

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবীর সব সম্পর্কের মধ্যে মায়ের সম্পর্কই সবচেয়ে নিঃস্বার্থ। সন্তানের সুখের জন্য মা নিজের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করতে পারেন। শরীয়তপুরের এই ঘটনাটি যেন সেই সত্যকেই আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।বিশ্ব মা দিবসে এই মায়ের আত্মত্যাগের গল্প শুধু শরীয়তপুর নয়, পুরো দেশের মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। 

এদিকে আকাশের সুস্থতা কামনায় উত্তর বাইকশা এলাকায় চলছে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মা-ছেলের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন হাজারো মানুষ।

ঢাকা/আকাশ//

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়