ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বইমেলার সেকাল-একাল

খন্দকার মাহমুদুল হাসান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-০৯ ১২:০৮:৫৮ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১০ ৪:৪৩:১১ পিএম

১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমিতে অমর একুশে উপলক্ষে আলোচনার প্রচলন হয়েছিল। তবে সে বছর কোনো বইমেলার আয়োজন করা হয়নি (তথ্যসূত্র: খন্দকার মাহমুদুল হাসান, বাংলাদেশের প্রথম ও প্রাচীন, বর্ণায়ন) । যতটা জানা যায়, প্রথম দুটি বইমেলা হয়েছিল ১৯৬৪ সালে। দুটিই হয়েছিল ঢাকায়। সে বছর গোড়ার দিকের প্রথমটি হয়েছিল টিচার্স ট্রেনিং কলেজে। দ্বিতীয়টি হয়েছিল ১৮ থেকে ২৪ শে অক্টোবর পর্যন্ত এক সপ্তাহব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের নিচতলায়।

১৯৭০ সালে নারায়ণগঞ্জে একটি বইমেলা হয়েছিল। ১৯৭২ সালের ২০ থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলা একাডেমিতে একটি আন্তর্জাতিক বইমেলা হয়, যার উদ্যোক্তা ছিল জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র। বইমেলা উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আবু সাঈদ চৌধুরী। মূল আয়োজনের বাইরে মুক্তধারা, স্ট্যান্ডার্ড পাবলিশার্স ও  বর্ণমিছিল পুস্তক বিপণনের ব্যবস্থা করেছিল। ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে বইমেলা আয়োজিত হয়েছিল। এই বইমেলাগুলোর পেছনে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের তৎকালীন পরিচালক ও বিখ্যাতজন সরদার জয়েন উদদীনের খুব বড়ো অবদান ছিল (তথ্যসূত্র: খান মাহবুব, বাংলাদেশের বইমেলার অঙ্কুরকথন, প্রথম আলো, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০)।

১৯৭৪ সালের ১৪ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দেশের প্রথম জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু এই সম্মেলন উদ্বোধন করেছিলেন। এ উপলক্ষে গ্রন্থ প্রদর্শনীও হয়েছিল। অমর একুশে উপলক্ষে ১৯৭৫ সালে বাংলা একাডেমির ফটকের কাছে খোলা জায়গায় অস্থায়ী ভিত্তিতে বই বিক্রির জন্য অনুমতি চেয়েছিল মুক্তধারা। সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি অনুমতি দিয়েছিল। ১৯৭৬ ও ১৯৭৭ সালেও এভাবে বই বিক্রি হয়েছিল এবং অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যাও ক্রমে বাড়ছিল। মহাপরিচালক ডক্টর আশরাফ সিদ্দিকীর নির্দেশে ১৯৭৮ সালে বাংলা একাডেমির প্রকাশনা, মুদ্রণ ও বিক্রয় বিভাগ একুশ উপলক্ষে বইমেলার আয়োজন করে। পরের বছর ১৯৭৯ সালে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহযোগিতা নিয়ে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নতুন উদ্যোমে  গ্রন্থমেলার সূচনা হয় (সূত্র: একুশের স্মারকগ্রন্থ, ১৯৮৬।

১৯৭৮ সালের বইমেলার সময়কাল ছিল ১৫ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এই বইমেলার খবর এবং বিজ্ঞাপন দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে ছাপা হয়েছিল। ১৯৮৪ সালে এসে একাডেমি বইমেলার নাম হয় ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’ এবং গ্রন্থমেলা পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়।

আশির দশকেও বইমেলার একটি বারোয়ারী চরিত্র লাভের প্রবণতা দৃশ্যমান ছিল। প্রকাশনা সংস্থাসমূহের স্টলগুলোর বাইরে খাবার দোকান, ক্যাসেটের দোকান তো ছিলই। আরো ছিল গৃহস্থালি সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা। মেলা প্রাঙ্গণে চট বিছিয়ে দা-বটি বিক্রির ব্যবস্থাও চালু হয়েছিল। এসব ঘটনার আমি প্রত্যক্ষদর্শী। বারোয়ারী মেলা হয়ে ওঠার প্রবণতা যখন তুঙ্গে তখন মেলার মূল উদ্দেশ্য ধরে রাখার কথা উঠতে শুরু করে। বিষয়টির প্রতি বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয় এবং বাংলা একাডেমির উদ্যোগেই এটি শুধুই বইয়ের মেলা হয়ে ওঠে। শুরু থেকে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণেই মেলা অনুষ্ঠিত হতো। পরে স্থান সংকুলান না হওয়ায় তা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিস্তৃত হয়েছে।

এখন বইমেলা একটি বড়ো জাতীয় অনুষ্ঠান। নিঃসন্দেহে তা বিরাট অগ্রগতি। চোখ ধাঁধানো আলো, মস্ত সব প্যাভিলিয়ন। সুসজ্জিত সব স্টল-এসব আগে ছিল না। তবে ছোট পরিসরেও লেখক-পাঠকের নিবিড় আড্ডাটা ছিল।


ঢাকা/তারা

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও