ঢাকা     শনিবার   ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ৪ ১৪২৭ ||  ৩০ মহরম ১৪৪২

অপরাধী ধরলে অভিযোগ কেন, বিএনপিকে কাদের

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:৫৭, ১০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
অপরাধী ধরলে অভিযোগ কেন, বিএনপিকে কাদের

ওবায়দুল কাদের

সরকার বিভিন্ন অপরাধে নিজের দলের লোকদেরও ছাড় দিচ্ছে না। আর বিএনপি সমর্থিত কোনো অপরাধী গ্রেপ্তার হলে অভিযোগ কেন?

সোমবার (১০ আগস্ট) সংসদ ভবন এলাকায় নিজের সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্ন রেখেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেছেন- তাদের দলের নেতাকর্মীদের নাকি গ্রেপ্তার হয়রানি করা হচ্ছে। আমি আগেও বলেছি, রাজনৈতিক কারণে কাকে কোথায় গ্রেপ্তার-হয়রানি করা হয়েছে বলুন। তাই বলে অপরাধীদের ধরা হবে না?। অপরাধী-সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। 

তিনি বলেন, দেশে অসংখ্য নজির রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের। শেখ হাসিনা সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখে। কোথাও রাজনৈতিক কারণে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক কারণে বিএনপির কোন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে? যারা চট্টগ্রামের চিহ্নিত অপহরণকারী বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারেনি- তাদের মুখে এসব কথা মানায় না।

আগস্ট এলেই আতঙ্ক বেড়ে যায় জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ দেশের মাটি বীরের বীরত্ব গাঁথায় উর্বর, আবার বিশ্বাসঘাতকতার নিকৃষ্ট নজিরও এখানে রয়েছে। এখানে দেশ প্রেমের যেমন বিরল দৃষ্টান্ত আছে, ঠিক তেমনি ষড়যন্ত্রের গন্ধও রয়েছে। এদেশে ঘটনার আগে কিছু বোঝা যায় না।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে চোখের পলকে ১৫ আগস্ট ঘটানো হয়েছিল। ২১ আগস্টের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল কারা? কারা তখন ক্ষমতায় ছিল। বিএনপিই ছিল মাস্টার মাইন্ড। যারা জজমিয়া নাটক সাজিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন দিকে ঘোরানোর অপচেষ্টা করেছিল। তাদের মুখে হত্যার বিচার চাওয়া কি শোভা পায়?।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায় ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার বন্ধে কারা ইনডেমনিটি আইন করেছিল? কারা কলঙ্কিত করেছিল সংবিধানে ৫ম সংশোধনী। তাই আগস্ট এলেই আমরা আতঙ্কে থাকি। কারণ ষড়যন্ত্রকারী বিশ্বাস ঘাতকদের প্রেতাত্মারা এখনও রয়েছে। যারা এ দেশের রাজনীতিতে রক্ত, হত্যা আর প্রতিহিংসা ছড়িয়েছে, তারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলা আরেক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে জনগণ মনে করে।

অভিভাবকদের ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনাভাইরাসের এ সময়ে দীর্ঘদিন স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা এবং বাসাবাড়িতে অবস্থান করায় শিশু কিশোর এবং তরুনদের মানসিক চাপ বেড়েছে। সরকার সামগ্রিক দিক বিবেচনা এবং সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার ভিক্তিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনলাইনে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে সরকার যথা সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেবে। আমি অভিভাবকদের ধৈর্য ও সহনশীলতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানাচ্ছি।

পারভেজ/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়