ঢাকা     বুধবার   ২৯ মে ২০২৪ ||  জ্যৈষ্ঠ ১৫ ১৪৩১

ঋণ করে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার: নজরুল 

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৪, ১৫ মে ২০২৪  
ঋণ করে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার: নজরুল 

আগামী তিন মাসের মধ্যে রিজার্ভ শূন্যে পৌঁছাবে, এ আশঙ্কা ব্যক্ত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সে কারণেই ঋণ করে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।

বুধবার (১৫ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা আকরাম খাঁ হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবদুল মতীনের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐক্য’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

দেশ বর্তমানে কঠিন দুঃসময় অতিক্রম করছে, মন্তব্য করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের উৎপাদন করার চেয়ে আমদানি করার চাহিদা বেশি। কমে গেছে রপ্তানি আয়ও। দেশে প্রবাসী আয় কমেছে। দেশকে এখন পুরোপুরিভাবে পরনির্ভরশীল করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকার। 

তিনি বলেন, কোনো দিক থেকে আমরা ভালো কিছু দেখছি না। দেশে ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো বিচার হচ্ছে না। দেশে রিজার্ভ কমে যাচ্ছে, কিন্তু সরকার এখন ঋণ করে রিজার্ভ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আমাদের রপ্তানি আয় এখন হুমকির মুখে। আমাদের দেশে গ্যাসের সন্ধান করে মানুষের চাহিদা মেটানোর চেয়ে গ্যাস আমদানি করার চাহিদা সরকারের বেশি।

বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, দেশে একদিকে লোডশেডিং হচ্ছে, অন্যদিকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। এই লুটপাটের মাশুল দিতে হচ্ছে জনগণকে। সারা দুনিয়ায় তেলের দাম কমে গেলেও আমাদের দেশে তেলের দাম বেড়েছে। দেশে বেকার সংখ্যা বেড়েছে। জিনিসপত্রের দাম প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে। আমাদের দেশের গবেষকরা বলছে, প্রতিবছর দেশে গরিবের সংখ্যা বাড়ছে। শিশুমৃত্যুর হার বাড়ছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ার কারণে মজুরি কমে যাচ্ছে। অথচ, এই সরকার কোনো কিছুরই পরোয়া করছে না। 

তিনি আরও বলেন, এদেশের সাধারণ মানুষ বড় কষ্টে আছে। আমাদের ১৬টা চিনিকল ছিল। বর্তমানে মাত্র ৭টা আছে। সেগুলোর অবস্থাও তেমন ভালো নয়। আমরা আজকে পরনির্ভরশীল হয়ে গেছি। সরকার উৎপাদন করে চাহিদা মেটানোর চেয়ে আমদানি করে চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ দেশটাকে একেবারে নির্ভরশীল করে ফেলা হয়েছে। যে দেশ পরনির্ভরশীল হয়, সে দেশকে কোনোমতে ভালো দেশ হিসেবে গণ্য করা হয় না। তাই, দেশকে বাঁচাতে হবে। যারা দেশকে সর্বনাশের দিকে ঠেলে দিয়েছে, তাদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে বলেন, দেশে যদি ছাত্র আন্দোলন থাকত, তাহলে হয়ত এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারত না। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের চেয়ে উপজেলা নির্বাচন আরও খারাপ হচ্ছে। দেশে রিজার্ভ কমে গেছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশের রিজার্ভ একেবারে জিরো হয়ে যাবে। বাংলাদেশের সরকার ক্ষমতায় নিয়ে একটু বেশি দুশ্চিন্তায় আছে। আমাদেরকে একটা কার্যকর ঐক্য তৈরী করে আন্দোলনে নামতে হবে। একটু বড় ধাক্কা দিলেই পড়ে যাবে সরকার।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন—বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল প্রমুখ।

এমএ/রফিক

আরো পড়ুন  



সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়