জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি কর্মজীবী নারীদের
নিজস্ব প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম
নির্বাচন ভবনে ১১টি নারী সংগঠনের পক্ষে রবিবার জামায়াতের আমির ড. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে স্মারণলিপি দেওয়ার পর ব্রিফ করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু। ছবি: রাইজিংবিডি।
কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তুলেছেন কর্মজীবী নারীরা। তাদের ভাষ্য, নারীদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে দেওয়া তার বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায় বিচারের পরিন্থি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ১১টি নারী সংগঠনের নেত্রীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে ডা. শফিকুরের প্রার্থিতা বাতিল চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছেন, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনটিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারী রাজনৈতিক ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের নারীবিষয়ক সম্পাদক জাকিয়া শিশির, আইনজীবী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি, গ্রীন গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স অপারেশনের সভাপতি সুলতানা বেগম, জনভাষ্যের কেন্দ্রীয় সদস্য শামীম আরা নীপা, গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মারজিয়া প্রভা এবং নারীপক্ষের একজন প্রতিনিধি।
ব্রিফিংয়ে মোশরেফা মিশু বলেন, সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা শুধু নারীদের প্রতি অবমাননাই নয়; বরং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী ও আত্মমর্যাদাশীল নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক ভূমিকার সরাসরি অস্বীকৃতি।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে দলটির পক্ষ থেকে উক্ত মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এ ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্ত প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
মিশু বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, কথিত ‘হ্যাকিং’ অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এতে ‘হ্যাকিং’ দাবিটি আরো প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশক ধরে গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমজীবী নারীরা পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। সেই অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত নারী অধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলে। রাজনৈতিক নেতৃত্বে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।
স্মারকলিপিতে চার দাবি-
১. অবিলম্বে উক্ত বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার;
২. কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা;
৩. ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে এমন বক্তব্য না দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং
৪. নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল।
এক প্রশ্নের জবাবে মোশরেফা মিশু বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সব নাগরিকের সম্মান, শ্রমের মর্যাদা ও সমান অধিকার রক্ষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কমিশনের কার্যকর ও দৃঢ় পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছি।
ঢাকা/এমএসবি/রাসেল