বৈশ্বিক রাজনীতিতে চরম নৈতিকতার সংকট দেখা দিয়েছে: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বিনা কারণে একটি স্বাধীন দেশে হামলা, রাষ্ট্রপ্রধানকে হত্যা কিংবা একটি দেশের প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করে কারাগারে পুড়িয়ে হত্যার মতো ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে ভয়াবহ বার্তা দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, “বৈশ্বিক রাজনীতিতে চরম নৈতিকতার সংকট দেখা দিয়েছে।”
সোমবার (২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) অডিটরিয়ামে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়ার সহধর্মিনী অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে।”
তিনি বলেন, “এ সংকট কাটিয়ে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।”
তিনি বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে আজ খুব অসুস্থ। হয়তো আসতাম না, কিন্তু ড. শাহিদা রফিকের জন্য দোয়া চাইতে আমাকে আসতেই হয়েছে।”
নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা পুরোনো প্রজন্মের মানুষ। গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু বর্তমান বৈশ্বিক ও জাতীয় পরিস্থিতি আমাদের হতাশ করে।”
ড. শাহিদা রফিকের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “তিনি রাজপথে আমার সঙ্গে স্লোগান দিয়েছেন, অসংখ্য মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু দমে যাননি। আজ যখন কিছুটা ভালো সময় এসেছে, তখন তিনি আমাদের মাঝে নেই—এই কষ্ট আমাকে পোড়ায়।”
ইফতারের আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি সবার কাছে দোয়া প্রার্থনা করে বলেন, “আমি আর কথা বাড়াতে পারছি না। শরীর সায় দিচ্ছে না। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন ড. শাহিদা রফিককে জান্নাত নসিব করেন।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইএসটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. মো. শাহপুর রফিক মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও শিক্ষাবিদ ব্যক্তিত্ব।
ঢাকা/আলী/এসবি