ঢাকা     মঙ্গলবার   ০৫ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ২২ ১৪৩৩ || ১৭ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তি অশনি সংকেত: ইসলামী আন্দোলন

বিশেষ প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:২৭, ৫ মে ২০২৬  
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তি অশনি সংকেত: ইসলামী আন্দোলন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। ফাইল ফটো

বিএনপি-জামায়াতের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একতরফা চুক্তি করা হ‌য়ে‌ছে উল্লেখ করে একে জাতির জন্য অশনি সংকেত বলে মন্তব্য করেছে  ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। 

মঙ্গলবার (৫ মে) দল‌টির মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এ কথা ব‌লেন।

এক বিবৃতিতে তি‌নি ব‌লেন, “নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি সাক্ষরের আগেই এর যথার্থতা ও সময় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিলো। এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছিলো। এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আশংকা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। চুক্তিতে একতরফাভাবে বাংলাদেশের ওপরে ১৩১টা বিষয়ে বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে মাত্র ৬টি বিষয়ে আবশ্যকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।” 

"চুক্তিতে সবচেয়ে সমস্যাজনক বিষয় হলো, একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ হিসেবে দেশের জনগণের স্বার্থে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। চুক্তিতে বাণিজ্যিক বিবেচনা ও সুযোগ ধারায় বলা হয়েছে “রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান জনস্বার্থে দেশীয় উৎপাদকদের ভর্তুকি দিতে পারবে না এবং পণ্য উৎপাদনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র লিখিতভাবে চাইলে বাংলাদেশ ভর্তুকির তথ্য দেবে। কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কী বিশেষ সহায়তা বা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে, তা জানাতে হবে” ব‌লেন দল‌টির মুখপাত্র। 

চুক্তিতে একগাদা আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া ও বাস্তবায়ন করার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে জা‌নি‌য়ে গাজী আতাউর ব‌লেন, “আন্তর্জাতিক চুক্তির অধিকাংশ শক্তিশালী রাষ্ট্রের স্বার্থের অনুকূলে শর্ত রাখা হয়। দেশীয় বাস্তবতায় কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগ দেওয়া না দেওয়ার বিষয়টি একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম রাষ্ট্রের নিজস্ব সিদ্ধান্তের বিষয়। অন্য কোনো রাষ্ট্র সেই সিদ্ধান্ত আমাদের ওপরে চাপিয়ে দিতে পারে না। কিন্তু এই চুক্তিতে সেই বাধ্যবাধকতা মেনে নেওয়া হয়েছে। এভাবে এই চুক্তির বহু বিষয় আছে যা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। সেই চুক্তি অন্তর্বতী সরকার সাক্ষর করেছে এবং তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই চুক্তি করার সময়ে বিএনপি ও জামায়াতের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। এটাই সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয়। দেশের স্বার্থ বিসর্জনে সরকার ও বিরোধীদল একমত হলে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়‌বে।” 

এই চুক্তি নিয়ে সংসদে ও সংসদের বাইরে সর্বদলীয় আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার দা‌বি জা‌নি‌য়ে ইসলামী আন্দোলন মুখপাত্র বলেন, “সংস‌দে ও বাইরে আলোচনা ক‌রে সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ বের করতে হবে। কারণ, আমরা কোন পরাশক্তির আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারি না। একাত্তর ও জুলাই আমাদের স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার শিক্ষা দেয়।”

ঢাকা/নঈমুদ্দীন/ইভা 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়