Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ মে ২০২১ ||  জ্যৈষ্ঠ ৪ ১৪২৮ ||  ০৫ শাওয়াল ১৪৪২

কেঁচো সার তৈরি করে সফল তসলিম 

সাকিরুল কবীর রিটন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৩:১৬, ১০ এপ্রিল ২০২১   আপডেট: ১৩:৩৬, ১০ এপ্রিল ২০২১
কেঁচো সার তৈরি করে সফল তসলিম 

যশোরের কেশবপুরে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরি করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক শেখ তসলিম উদ্দিন। তার তৈরি এ সার জমিতে ব্যবহার করে এলাকার কৃষক বিষমুক্ত ফসল ও সবজি উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন। এছাড়া কৃষি অফিসের পরামর্শে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে মাটির গুণাগুণ ঠিক রাখতে কৃষকরা তার উৎপাদিত কেঁচো সার ব্যাপকভাবে ব্যবহারে ঝুঁকে পড়েছেন।

উপজেলার সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নের চিংড়া গ্রামের কৃষক শেখ তসলিম উদ্দিন ২০১৩ সালে কৃষি অফিসের পরামর্শে তার আবাদ করা জমিতে ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিসরে কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) তৈরির উদ্যোগ নেন। চিংড়া বাজারসংলগ্ন এলাকায় গোবর ও কেঁচোর সমন্বয়ে এ সার তৈরি করতে প্রথম দিকে তার প্রতিবেশীদের দ্বারা বেশ সমালোচিত হন। তবে তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে কার্যক্রম চালিয়ে যান।

উৎপাদিত কেঁচো সার তসলিম উদ্দিন নিজ জমিতে ব্যবহার করে ফসলের ব্যাপক ফলন পাওয়ায় আশপাশের কৃষকেরা উদ্বুদ্ধ হন। তখন থেকে এ জৈব সারের চাহিদা বাড়তে থাকায় ২০২০ সালে ‘চিংড়া ভার্মি কম্পোস্ট’ নামে একটি খামার তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন। এ লক্ষে ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থের পৃথক ৩৫টি হাউজ তৈরি করেন। প্রতি হাউজে দশ বস্তা গোবর ও পাঁচ কেঁজি কেঁচো থেকে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ মণ কেঁচো সার (ভার্মি কম্পোস্ট) উৎপাদিত হয়। সবমিলিয়ে প্রতি মাসে তার এ খামার থেকে প্রায় ১৫০ মণ কেঁচো সার উৎপাদন হচ্ছে। যা তিনি প্রতি কেজি ১২ টাকা দরে কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন। এ খামারে চারজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে। 

কেঁচো সার উৎপাদনে সফল কেশবপুরের তসলিমের কৃষক আসাদুল সানা ও মিজানুর রহমান বলেন, ‘কেঁচো সার ব্যবহার করে তাদের পটল ও ধান ক্ষেতের উর্বরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাসায়নিক সারের ব্যবহার কম করায় ফসল উৎপাদনে খরচ কমেছে এবং গত বছরের চেয়ে ক্ষেতে পটল ও ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।’

কৃষক তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘কৃষকেরা জমির গুণাগুণ ঠিক রেখে অল্প খরচে নিরাপদ সবজি ও ফসল উৎপাদন করতে পারে এ লক্ষ্যে আমি ‘চিংড়া ভার্মি কম্পোস্ট’ খামার নিয়ে কাজ করছি। প্রতি মাসে আমার খামারে উৎপাদিত কেঁচো সার ও কেঁচো বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় হচ্ছে।’

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার মহাদেব চন্দ্র সানা বলেন, ‘কৃষক তসলিম উদ্দিনের ভার্মি কম্পোস্ট খামারে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন ও দিকনির্দেশনা দিয়েছি। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও মাটির সুস্বাস্থ্য রক্ষায় কেঁচো সারের জুড়ি নেই। এ জৈব সার মাটির পানি ধারণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ফলে জমিতে কম খরচে অধিক ফসল উৎপাদন সম্ভব। এ কারণে প্রতিনিয়ত কৃষকদের কেঁচো সার ব্যবহার করার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেঁচো সার প্রতি শতকে পাঁচ থেকে ছয় কেজি দিয়ে পরপর দু’বছর ব্যবহার করার পর মাটির উর্বরতা ফিরে এলে তখন তেমন রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন হবে না। বর্তমানে কেঁচো সারের চাহিদা বাজারে ব্যাপক বেড়েছে। বেকার যুবরা প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বল্প বিনিয়োগে এ সার উৎপাদন করে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এতে ঝুঁকি ও পরিশ্রম দুটোই কম।’

যশোর/মাহি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়