ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৩ ১৪২৮ ||  ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

গুগলই সায়েমের শিক্ষক, মাসে আয় লাখ টাকা

আমিরুল ইসলাম, রংপুর || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:১০, ২৮ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১১:১৪, ২৯ নভেম্বর ২০২১
গুগলই সায়েমের শিক্ষক, মাসে আয় লাখ টাকা

আবু সায়েম

অদম্য ইচ্ছা নিয়ে নিজের লালিত স্বপ্ন পূরণে ঝুঁকে পড়েন ইন্টারনেটে। প্রশিক্ষণ ছাড়াই সারাদিন গুগল ও ইউটিউবসহ বিভিন্ন সাইট ঘেটে ঘেটে ফ্রিল্যান্সিংয়ের ধারণা রপ্ত করতে থাকেন। একসময় এই ফ্রিল্যান্সিং ও বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে প্রতিমাসে লাখ টাকা আয় শুরু করেন তিনি। বলছি রংপুরের তরুণ আবু সায়েমের কথা। 

সায়েম শুধু নিজে নন, প্রত্যন্ত এলাকার অনেককেই তিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তার দেখানো পথে হেঁটে এলাকার অনেক তরুণ স্বাবলম্বী হয়েছেন-হচ্ছেন। তাদের অনেকেই দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন।

আবু সায়েম রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের ছেলে। তার বাবা ছিলেন স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম। মা আরজিনা বেগম, গৃহণী। চার বোন ও দুই ভাইয়ের সংসার তাদের। ভাই-বোনদের মধ্যে তিনি পঞ্চম। বাবা মারা যাওয়ার পর সর্বশান্ত ছিল পুরো পরিবার। পরিবার চালাতে কিছু করার ইচ্ছে থেকে ঝুঁকে পড়েন ফ্রিল্যান্সিংয়ে।

তিনি জানান, ২০১৬ সালে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেন। শুরুর অভিজ্ঞতাটা খুব ভালো ছিল না। নিভৃত গ্রামে একবুক স্বপ্ন নিয়ে নিজের নামে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করেন। তখন প্রশিক্ষণার্থী সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ জন। নেটওয়ার্ক সমস্যা আর প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা কম থাকায় কিছুটা হোচট খান। তবে হাল ছাড়েননি। পড়াশোনাসহ ব্যক্তিগত কারণে পরের বছরই শহরে পা রাখেন সায়েম। এরপর আর তাকে ফিরে তাকাতে হয়নি। দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর পরিশ্রম করে এখন তিনি সফল।

তিনি বর্তমানে কম্পিউটার সায়েন্সে সপ্তম সেমিস্টারে পড়ছেন। ২০১৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে উত্তীর্ণ হন। ২০১৫ তে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় সফলতার সাথে পাস করেন। কোনো প্রশিক্ষক ছাড়াই ফ্রিল্যান্সিং রপ্ত করে চাকরি হিসেবে শিক্ষকতা পেশা বেছে নেবেন।  

সায়েম বলেন, পরিবারে আমরা দুই ভাই ও চার বোন। এরমধ্যে আমার দায়িত্ব একটু বেশি। পড়াশোনার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং থেকে আমার আয়ের পথ খুলেছে। এখন মাসে আয় লাখের কাছাকাছি। তবে বছর শেষে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করছি। পরিবারের দেখভাল ও ছোট ভাইয়ের পড়ালেখার খরচ চালাচ্ছি।

বেকারত্ব দূরীকরণে আগ্রহের কথা জানিয়ে এই তরুণ আরও বলেন, বেকারত্ব একটা অভিশাপ। আমি চাই এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা ফ্রিল্যান্সিং শিখে বেকারত্ব দূর করুক।

রংপুর বিভাগীয় নগরীতেও নিজের নামে গড়ে তুলেছেন দুটি ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এখান থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, এসইও (সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন), লিড জেনারেশন, সিপিএ মার্কেটিং, কনটেন্ট মার্কেটিং, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংসহ আউটসোর্সিংয়ের বিভিন্ন মাধ্যম সম্পর্কে তরুণরা উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।

বর্তমানে সায়েম একাডেমিতে অর্ধশত শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোসিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আর গত ছয় বছরে তার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সাড়ে ৪ হাজার শিক্ষার্থী ফ্রিল্যান্সিংয়ের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কাজ শুরু করেছেন দেড় হাজেরের বেশি তরুণ। 

ফ্রিল্যান্সিং পেশা সম্পর্কে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক উমর ফারুক বলেন, আউটসোর্সিং বা ফ্রিল্যান্সিং পেশাটি বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার একটি বড় খাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই এই খাতকে মূল্যায়ন করা জরুরি।

/মাহি/

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়