ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৫ ১৪২৮ ||  ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভেড়া পালন ও সবজিতে পাল্টে গেছে ধরলার চরের জীবন 

বাদশাহ্ সৈকত, কুড়িগ্রাম  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ২৯ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১৫:২৩, ২৯ নভেম্বর ২০২১
ভেড়া পালন ও সবজিতে পাল্টে গেছে ধরলার চরের জীবন 

ববিতা বেগম। কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের ধরলার চর সরদার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। বিগত বছরের বন্যাগুলোতে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন। ভেসে গেছে বসতবাড়ি। সেসময় সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতা পেলেও কষ্টের জীবন কাটেনি। গত বন্যার পরে খাদ্য সহায়তার সঙ্গে পেয়েছেন ১টি ভেড়া ও শাক-সবজির বীজ। এক বছরেই তার ঘরে এখন ৪টি ভেড়া। বিক্রি করছেন বাড়ির উঠোনের শাক-সবজি। সংসারে এসেছে সচ্ছলতা। 

কুড়িগ্রামের ভোগডাঙ্গা, পাঁচগাছি ও যাত্রাপুর ইউনিয়নে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এমন মানবিক সহযোগিতায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের ৮টি গ্রামের ২৪০ পরিবার। এমন সহযোগিতা করেছে বেসরকারি সংগঠন ফ্রেন্ডশিপের ট্রানজিশন ফান্ড (এএসডি) প্রকল্প।

ববিতা বেগম জানান, তিনি ফ্রেন্ডশিপের ট্রানজিশন ফান্ড (এএসডি) প্রকল্প থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের একটি ভেড়া পেয়েছেন। এখন তার ৪টি ভেড়া; যার বাজারমূল্য ১৬ হাজার টাকা। আধুনিক পদ্ধতিতে শাক-সবজি উৎপাদনের প্রশিক্ষণ পাওয়ার পর তার বসতবাড়িতে উৎপাদিত সবজি এ বছর ৮ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। তার সাংসারিক ব্যয়ভার বহনে সহায়ক হচ্ছে। একটি সেলাই মেশিনও কিনেছেন।

একই গ্রামের আহাদ আলী, সুমি বেগম, সাজিনা খাতুনসহ আরও অনেকে বলেন, আগে হাট থেকে সার কিনে আনতাম। এখন আমরা কম্পোস্ট সার তৈরি করে ব্যবহার করি। ফেরোমন ফাঁদ দিয়ে পোকা মারছি। সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে বিভিন্ন অফিসে যোগাযোগ করছি। সঙ্গে গ্রামে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

‘ফ্রেন্ডশিপ’-এর ট্রানজিশন ফান্ড (এএসডি) প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ফ্রেন্ডশিপ লুক্সেমবার্গের সহায়তায় গ্রামের মানুষের সচ্ছলতা আসে। তাদের আয়-রোজগার নিয়মিত হয়। এতে তারা অর্থনৈতিক মুক্তি পায়। সমাজে সুশাসন; যেমন বাল্যবিবাহ রোধ, পারিবারিক নির্যাতন বন্ধ, জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সম্পর্কে ধারণা, জিডি করার কৌশল ইত্যাদি শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ পায় তারা। পাশাপাশি তাদের মধ্যে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। রৌমারী উপজেলার মোট ২৪টি চরের ৭২১ পরিবারকে সহায়তা করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ফ্রেন্ডশিপের ট্রানজিশন ফান্ড প্রকল্পের মাধ্যমে ২৪০টি পরিবারকে ভেড়া প্রদান এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ফলে পরিবারগুলোর ভেড়া পালনের মাধ্যমে স্বল্প সময়ে অধিক আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেকটি ভেড়াকে টিকা এবং কৃমিনাশক বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। চর এলাকা ভেড়া পালনের উপযুক্ত, তাই এ অঞ্চলের মানুষ স্বাবলম্বী হবে বলে আশাবাদী।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়