ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৭ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ১৩ ১৪২৮ ||  ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

ভারত-মালয়েশিয়ার বাজারে ডুমুরিয়ার শুঁটকি 

মুহাম্মদ নূরুজ্জামান, খুলনা  || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৩৫, ৩০ নভেম্বর ২০২১   আপডেট: ১১:৪৩, ৩০ নভেম্বর ২০২১
ভারত-মালয়েশিয়ার বাজারে ডুমুরিয়ার শুঁটকি 

শুঁটকি পল্লী, খুলনা 

খুলনার ডুমুরিয়ায় সালতা নদীর তীরে গড়ে উঠেছে শুঁটকি পল্লী। স্বাস্থ্যসম্মতভাবে উৎপাদিত এখানকার শুঁটকি মাছ বিদেশের বাজারে সুনাম কুড়াচ্ছে। তাই শুঁটকি উৎপাদনে ব্যাপক ধুম পড়েছে এই পল্লীতে।  খুলনা মহানগরীর নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা মালয়েশিয়া প্রবাসী মো. নূর ইসলামের উদ্যোগে গড়ে উঠেছে এই পল্লী। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের টিয়াবুনিয়া এলাকায় গত দুই মাস আগে গড়ে উঠেছে ‘মেসার্স নূর ভাই ভাই ফিস ট্রেডিং’ নামক একটি শুঁটকি মাছের প্রজেক্ট। সালতা নদীর তীরে বাঁশের মাচা তৈরি করে বিশাল চাতালে প্রতিদিন ১ টনেরও বেশি মাছ শুকানো হচ্ছে এখানে। এ কর্মযজ্ঞে অর্ধশত নারী-পুরুষ শ্রমিক প্রতিদিন সমানতালে কাজ করছেন। এদের অধিকাংশের বাড়ি খুলনার কয়রা এলাকায়। প্রতিদিন সূর্যের প্রখর তাপে শুকানো হচ্ছে সাগর থেকে সংগ্রহ করা বিভিন্ন প্রজাতির এই মাছ। কাঁচা মাছ ১০ মিনিট লবণ পানিতে ভিজিয়ে রৌদে শুকানো হচ্ছে। যাতে মাছগুলোকে পোকা মাকড়ে নষ্ট না করতে পারে। এখানে ফাইস্যা, লইট্টা, চ্যাপা, রূপচাঁদা, শৈল, হাঙর, ইলিশ, ভোলা ও দেশীয় পুঁটিসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি প্রজাতির মাছ শুকানো হয়। তবে বিদেশের বাজারে হাঙর মাছের চাহিদাও রয়েছে বেশ। 

এ প্রসঙ্গে শুঁটকি পল্লির ম্যানেজার রিপন দাস বলেন, ‘নিয়মিত সূর্যের তাপ পেলে ৩ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই কাঁচা মাছ শুঁটকিতে পরিণত হয়। আমাদের শুঁটকি দেশের বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।’ 

এ বিষয়ে নূর ভাই ভাই ফিস ট্রেডিংয়ের মালিক প্রবাসী মো. নূর ইসলাম বলেন, ‘আমি দীর্ঘ ১৪ বছর যাবত মালয়েশিয়ায় থেকে শুঁটকি মাছের ব্যবসা করেছি। সেখানে এখনো আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে বন্ধ আছে। তাই দেশে এসে আমি শুঁটকির ব্যবসা শুরু করেছি। এখানে ২ একর জায়গা নিয়ে আমি বাঁশের খুঁটি এবং চালা তৈরি করে মাটি থেকে ৫/৭ ফুট উঁচুতে চাতাল করেছি। এ প্রজেক্টে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে শুঁটকি উৎপাদন করা হচ্ছে। শুধু লবণ পানি ছাড়া কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার করা হয় না।’ 

তিনি বলেন, ‘আমি বিদেশে এ ব্যবসায় সফলতা পেয়েছি। যে কারণে সরাসরি বিদেশের বাজারে ভারত ও মালশিয়ায় রপ্তানি করছি।’ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে মাছ প্রক্রিয়াজাতরণ করায় বিদেশে এর চাহিদা খুব বেশি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

/মাহি/

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়