ঢাকা     শুক্রবার   ০১ জুলাই ২০২২ ||  আষাঢ় ১৭ ১৪২৯ ||  ০১ জিলহজ ১৪৪৩

জাদুতে বিশ্ব মাতাচ্ছেন চট্টগ্রামের ফারহানুল ইসলাম

রেজাউল করিম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:০৫, ১৮ মে ২০২২   আপডেট: ১১:৩২, ১৮ মে ২০২২
জাদুতে বিশ্ব মাতাচ্ছেন চট্টগ্রামের ফারহানুল ইসলাম

ফারহানুল ইসলাম

অজানা মন্ত্রে সহস্র মানুষকে মুহূর্তে সম্মোহিত করে ফেলেন তিনি। কখনো নিজেকে গায়েব করে আবার কখনো শেকল বাঁধা নিজেকে পানির নিচে গিয়ে বিস্ময়করভাবে মুক্ত করে। অবাক করা সব ম্যাজিকে মানুষকে বিনোদিত করার অবিশ্বাস্য ক্ষমতা রয়েছে তার। তিনি চট্টগ্রামের তরুণ ফারহানুল ইসলাম। 

ম্যাজিকে ফারহানুল ইসলাম এখন দেশ ছাড়িয়ে মাতাচ্ছেন বিশ্ব। বিশ্বের উন্নত দেশ কানাডাতে ম্যাজিক শো মানেই ফারহানুল ইসলাম। কানাডা ছাড়িয়ে ম্যাক্সিকো, কোস্টারিকাসহ বিভিন্ন দেশে শো করে অর্জন করেছেন ব্যাপক সুনাম। তার লেখা বই আন্তর্জাতিকভাবে হয়েছে বেস্ট সেলার।

ফারহানুল ইসলামের বয়স ৩০ এর কোটায়। এই বয়সেই জাদুশিল্পী হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন বৈশ্বিক খ্যাতি। 

ফারহানুল ইসলাম জন্মেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীর সদরঘাট থানার আওতাধীন পূর্ব মাদারবাড়ি এলাকায়। পড়ালেখা শুরু হয় চট্টগ্রাম গ্রামার স্কুলে। ছোটবেলা থেকেই সব কিছু নিয়ে কৌতূহলী ছিলেন তিনি। 

মঙ্গলবার (১৭ মে) রাইজিংবিডিকে ফারহানুল ইসলাম জানান, তাঁর বয়স যখন মাত্র ১৪ বছর তখন থেকেই তিনি ম্যাজিকের কলাকৌশলের উপর আকৃষ্ট হন। বিশেষ করে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল এএক্সএন-এ ডেভিড ব্লেইন-এর শো তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে বলে জানান তিনি। 

ফারহানুল ইসলাম বলেন, ‘ডেভিড ব্লেইন-এর শো দেখতে দেখতেই আমি ম্যাজিকের নানা কৌশল আত্মস্থ করতে থাকি নিজস্ব গবেষণার মাধ্যমেই। ১৬ বছর বয়সেই আমি চট্টগ্রামের বিভিন্ন শো-তে নিজের কৌশলে জাদু প্রদর্শন করি। একই বছর প্রথম বাংলাদেশি একটি টিভি চ্যানেলে ম্যাজিক শো করার সুযোগ পাই। পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য চলে আসতে হয় কানাডায়। কানাডায় আসলেও ম্যাজিকের প্রতি আকর্ষণ কমেনি একটুও। গত ৬ বছরের বেশি সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন স্টেট ও টেলিভিশনে ম্যাজিক শো করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কানাডায় কনকোর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেজ বিভাগে ভর্তি হই। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখার সময় চলতে থাকে জাদু চর্চা। এক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সহপাঠীদের মাধ্যমে আমার ম্যাজিক চর্চার কথা পুরো ক্যাম্পাসে জানাজানি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম কানাডীয় টিভি চ্যানেল সিইউটিভিতে ম্যাজিক শো করার সুযোগ পাই। এই শো-তে ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় ম্যাজিশিয়ানদের সামনে নিজের ব্যাতিক্রমী শো প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম কুড়াতে সক্ষম হই।’

প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে কানাডায় আন্ডারওয়াটার এস্কেপ ম্যাজিক এবং হলভর্তি হাজার হাজার দর্শককে মুহূর্তে সম্মোহিত করে সমগ্র কানাডায় ঝড় তুলতে সক্ষম হন তিনি। এরপর তিনি কানাডাতে একের পর এক বিভিন্ন বড় আয়োজনে লাইভ জাদু প্রদর্শন এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে ম্যাজিক শো করে আসছেন ধারাবাহিক ভাবে। কানাডায় ফারহানুল ইসলামের শো-মানেই হাজার হাজার দর্শক। তার শো-এর টিকিট পাওয়ায় দর্শকদের জন্য কষ্টকর। 

বর্তমানে ইউরোপ আমেরিকার বড় বড় শিল্পীদের সঙ্গে ফারহানুল ইসলাম নিয়মিত জাদু প্রদর্শন করে আসছেন বিভিন্ন শো-তে। কানাডার বাইরেও তিনি মেক্সিকো, কোস্টারিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ম্যাজিক শো করছেন। 

কি কারণে তার শো এতো জনপ্রিয়- এমন প্রশ্নের উত্তরে ফারহানুল ইসলাম বলেন, ‘উন্নত দেশের মানুষ সব সময় নতুন কিছু দেখতে চায়। তিনি মোটা স্টিলের শেকলে নিজের হাত পা বেঁধে পানির নিচে ‘আন্ডার ওয়াটার স্কেইপ’ ম্যাজিক প্রদর্শন করে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সমগ্র কানাডায় আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ ছাড়া তিনি ভিন্নধর্মী ম্যাজিক প্রদর্শনে সমগ্র কানাডায় আলোচিত। বিশেষ করে মুহূর্তের মধ্যে হলভর্তি হাজার হাজার দর্শককে হাইপোনোসিস ম্যাজিকের মাধ্যমে সম্মোহিত করে ফেলতে পারেন। তাই এই সম্মোহন কৌশলের কারণে কানাডায় আমার শো মানেই হল ভর্তি দর্শক। টিকেট কেনার প্রতিযোগিতা।’ 

ফারহানুল ইসলামের প্রদর্শিত অন্য ম্যাজিকের মধ্যে রয়েছে ক্লোজ আপ (স্ট্রিট ম্যাজিক), মেন্টালিজম (মাইন্ড রিডিং) ম্যাজিক, আন্ডার ওয়াটার এস্কেপ, সম্মোহনি ম্যাজিক।

ফারহানুল ইসলাম সম্প্রতি ‘রিমাস্টারিং হ্যাপিনেস’ নামের একটি বই লিখেছেন। বইটি আমাজনে আন্তর্জাতিকভাবে বেস্ট সেলিং বুক হিসেবে খ্যাতি পেয়েছে। 

ফারহানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চট্টগ্রামের সন্তান। আমি বাংলাদেশের সন্তান। তাই বিশ্বের যে প্রান্তেই যাই আমি অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে নিজের দেশকে তুলে ধরতে চাই। আমার ম্যাজিক শো’র মাধ্যমে আমি যখন প্রশংসিত হই তখন একজন বাংলাদেশি হিসেবে গর্ববোধ করি। অনেকেই আমার দেশ সম্পর্কে জানতে চায়, আমি আমার দেশকে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরি তাদের কাছে।’ 

ফারহানুল ইসলাম পড়ালেখা শেষ করে কানাডাতেই বিজনেস এবং টিউটোরিয়াল ফার্ম পরিচালনা করছেন। এই ফার্ম থেকে তিনি বাংলাদেশিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ছাত্র/ছাত্রীদের কনসালটেন্সি সার্ভিসসহ অন্য শিক্ষা বিষয়ক সেবা প্রদান করে আসছেন।

ফারহানুল ইসলামের বাবা চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। তার মার নাম শিরিন আকতার। তিন ভাই বোনের মধ্যে ফারহান সবার বড়। তার ছোট ভাই কানাডায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তার এক বোন চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন।’

চট্টগ্রাম/ মাসুদ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়