RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ০২ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৮ ১৪২৭ ||  ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

নিউমোনিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:২৭, ২২ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
নিউমোনিয়ার ঘরোয়া চিকিৎসা

নিউমোনিয়া হচ্ছে ফুসফুসের প্রদাহ। ফুসফুসের এ অসুস্থতা রাতারাতি চলে যায় না। এ অবস্থা থেকে সুস্থ হতে এক সপ্তাহ থেকে এক মাস লাগতে পারে। আপনি হয়তো ইতোমধ্যে জানেন যে, কোভিড-১৯ বা নতুন করোনাভাইরাস সংক্রমণেও এক ধরনের নিউমোনিয়া বিকশিত হয়।

নিউমোনিয়ার ধরনের ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ওষুধ প্রেসক্রাইব করতে পারেন। কিছু ঘরোয়া উপায় অবলম্বন করেও এ অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা সম্ভব হতে পারে।

কিছু লক্ষণ দেখে নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধারণা করতে পারেন। এ স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণগুলো মৃদু থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো তীব্র হতে পারে। একজন মানুষের শরীর কিভাবে নিউমোনিয়ার প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা নির্ভর করে সংক্রমণ সৃষ্টিকারী জীবাণুর প্রকৃতি, ব্যক্তির বয়স ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর।

যুক্তরাষ্ট্রের ফুসফুস সংস্থার মতে, ফুসফুসে প্রদাহের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হচ্ছে: কাশি, উচ্চ জ্বর-ঘাম নিঃসরণ-কম্পন সৃষ্টিকারী ঠান্ডা অনুভূতি, শ্বাসকষ্ট, দ্রুত ও অগভীর শ্বাসক্রিয়া, তীব্র বা খোঁচানো বুক ব্যথা যা গভীর শ্বাস নিলে বা কাশলে আরো বেড়ে যায়, ক্ষুধামান্দ্য-শক্তির ঘাটতি-ক্লান্তি, শিশুদের বমিভাব ও বমি এবং বয়স্কদের বিভ্রান্তি। এখানে সাধারণ নিউমোনিয়ার ঘরোয়া সমাধান দেয়া হলো।

পানি, চা ও স্যূপ: সুস্থ থাকলেও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে একজন মানুষের প্রচুর তরল জাতীয় খাবার খেতে হয়। কিন্তু অসুস্থ অবস্থায় এর গুরুত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরল জাতীয় খাবার ফুসফুসের শ্লেষ্মা বের করে দিতে সাহায্য করে। এ সময় পানি, উষ্ণ চা ও মুরগির স্যূপ ভালো অপশন হতে পারে। ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল থেকে বিরত থাকুন। এগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেটেড করতে পারে।

লেবু ও মধু: কাশি আসলে লোকজনের প্রবণতা হচ্ছে কাশির সিরাপ সেবন করা। কিন্তু এটা মনে রাখতে হবে যে, কাশি হলো এমন একটা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর ফুসফুসের শ্লেষ্মা বের করে দিতে চেষ্টা করে। তাই কাশির সিরাপ ছাড়াই চলতে পারলে ভালো। কিন্তু কাশির মাত্রা বেশি থাকলে হালকা ডোজে সিডাটিভ কাশির সিরাপ সেবন করতে পারেন অথবা লেবু ও মধুর মিশ্রণ পান করতে পারেন।

ব্যথার ওষুধ: ব্যথা ও জ্বরে ভুগলে আইবুপ্রোফেন ও প্যারাসিটামলের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সহায়ক হতে পারে। কখন কতটুকু সেবন করতে হবে নিশ্চিত হয়ে নিন। চিকিৎসকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দিলে তা কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে, এমনকি ভালো অনুভব করলেও। অন্যথায় নিউমোনিয়া ফিরে আসতে পারে।

গরম ভাপ: শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে গরম ভাপে আরাম পেতে পারেন। কুসুম গরম পানিতে একটি কাপড় ভিজিয়ে কপাল বা ঘাড়ের ওপর ২০-৩০ মিনিট রেখে দিন। এটি বাইর থেকে শরীরকে শীতল করবে।

সঠিকভাবে কাশি দেয়া: প্রচুর কাশি আসলে সঠিকভাবে কাশলে সর্বোচ্চ উপকার পেতে পারেন। চেয়ারে বসে সামনে অল্প ঝুঁকে একটি টিস্যু পেপারে কয়েকবার জোরে কাশুন। বিশ্রাম নিয়ে আবার কাশুন। কাশি দেয়ার সময় ব্যথা পেলে পেটে একটি বালিশের চাপ দিলে সহায়ক হতে পারে।
বাষ্প স্নান: আর্দ্র বাতাসে শ্বাস নিলে ফুসফুসের শ্লেষ্মা আলগা হতে পারে। এ উপকার পেতে বাষ্প স্নান করতে পারেন। যেহেতু সবসময় বাথরুমে থাকতে পারবেন না, তাই বাতাসে আর্দ্রতা বাড়াতে ঘরে একটি হিউমিডিফাইয়ার চালু রাখতে পারেন। আর্দ্রতার সঠিক মাত্রা বজায় রাখতে হিউমিডিফাইয়ারের নির্দেশিকা অনুসরণ করুন।

হলুদ: দক্ষিণ এশিয়ায় শতশত বছর ধরে শ্বাসপ্রশ্বাসের সমস্যা, ক্লান্তি ও ব্যথার চিকিৎসায় এ মসলাটি ব্যবহার হয়ে আসছে। গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্রমণ ও নিউমোনিয়া উপশমে হলুদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। হলুদের সাপ্লিমেন্ট অথবা হলুদের চা চেষ্টা করে দেখতে পারেন। কিন্তু সতর্ক থাকবেন যে অত্যধিক হলুদ খেলে পেটের অবস্থা খারাপ হতে পারে। এছাড়া আপনি অন্যকোনো ওষুধের ওপর থাকলে তার ওপর হলুদ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে কিনা জানতে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বললে ভালো।

বিশ্রাম নেয়া: এটা হচ্ছে বিশ্রাম নেয়ার প্রকৃত সময়। নিউমোনিয়ার সঙ্গে লড়তে শরীরের পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। এসময় সকল প্রকার কাজ থেকে বিরত থাকুন। একটু ভালো অনুভব করলেই পুরো দমে কাজ করার চেষ্টা করবেন না, অন্যথায় নিউমোনিয়া প্রত্যাবর্তনের সুযোগ পেতে পারে।

ধূমপান বর্জন: ধূমপানে নিউমোনিয়ার উপসর্গ আরো শোচনীয় হতে পারে। তাই ধূমপান পরিহার করুন অথবা ধূমপানকারী থেকে বিরত থাকুন। ধূমপান কখনোই ফুসফুসের জন্য ভালো নয়। এ অভ্যাসে ভবিষ্যতে নিউমোনিয়া বা অন্যান্য ফুসফুস সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া আগুনে পরিবেশ আরামদায়ক হলেও দূরে থাকা উচিত, কারণ এর ধোঁয়াও ফুসফুসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ফুসফুসের ব্যায়াম: নিউমোনিয়ার সময় ব্রিদিং এক্সারসাইজ তথা ফুসফুসের ব্যায়াম ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে পারে। পাঁচ থেকে ১০ বার গভীর শ্বাস নিন, তারপর দুই থেকে তিন বার জোরে কাশি দিন। এতে ফুসফুস থেকে কিছু শ্লেষ্মা বের হয়ে আসবে। অথবা ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। চেষ্টা করে দেখার জন্য আরেকটি এক্সারসাইজ হচ্ছে, স্ট্র দিয়ে এক কাপ কুসুম গরম পানি ধীরে ধীরে পান করা।

শিশুদের নিউমোনিয়ায় করণীয়

আপনার বাচ্চার নিউমোনিয়া হলে বেশি খেতে চাইবে না। তাকে প্রচুর তরল পান করাতে হবে। জ্বর বা ব্যথা থাকলে প্যারাসিটামল সিরাপ খাওয়াতে হবে। এর পরিবর্তে আইবুপ্রোফেনও সেবন করানো যায়, কিন্তু শিশুদেরকে কখনো অ্যাসপিরিন খাওয়াতে যাবেন না। অ্যাসপিরিনের ব্যবহারে শিশুদের রেয়ে’স সিন্ড্রোম নামে মারাত্মক অসুস্থতা হতে পারে। শিশুর শরীর পানিশূন্য হলে অথবা বয়স তিন মাসের কম হলে আইবুপ্রোফেনও দেয়া যাবে না।

শিশুকে কাশির ওষুধ সেবন করানোর পূর্বে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে নেয়া ভালো। প্রকৃতপক্ষে, শিশুর বয়স ছয় বছরের কম হলে যেকোনো ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলাপ করুন। শিশুর শোয়ার ঘরে হিউমিডিফাইয়ার চালু করলে উপকার হবে। তার ঘুম যেতে সমস্যা হলে মাথা ও বুককে শরীরের অন্যান্য অংশের চেয়ে উঁচুতে তুলুন। তার কক্ষে ধূমপান করা যাবে না, অন্যথায় কাশির প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে অথবা ফুসফুসের অবস্থা আরো শোচনীয় হবে।

তথ্যসূত্র: ওয়েব এমডি


ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়