Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৪ জুলাই ২০২১ ||  শ্রাবণ ৯ ১৪২৮ ||  ১২ জিলহজ ১৪৪২

পা মচকে গেলে করণীয়

এস এম গল্প ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১০:০৭, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১০:২৩, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১
পা মচকে গেলে করণীয়

আমাদের শরীরের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত অংশ হলো পা। আমরা দাঁড়াতে, দৌঁড়াতে, হাঁটতে ও ওঠানামা করতে পায়ের গোড়ালি ব্যবহার করে থাকি। গোড়ালির ব্যবহার এত বেশি হয় যে হঠাৎ মচকে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। এছাড়া দুর্ঘটনাবশত রিকশা/বাস থেকে নামতে গিয়ে, গর্তে পড়ে গেলে, খেলাধুলা করার সময় অথবা সিঁড়িতে ঠিকমতো পা না পড়লেও গোড়ালি মচকে যেতে পারে। জুতায় সমস্যা থাকলেও এমনটা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের উঁচু হিলের জুতা পরার অভ্যাস আছে, তাদের পা মচকানোর আশঙ্কা বেশি। ছোটখাট মচকানির ক্ষেত্রে লিগামেন্টের কিছু ফাইবার বিস্তৃত হয়, অন্যদিকে মারাত্মক মচকানির ক্ষেত্রে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে।

পা হালকাভাবে মচকালে ঘরোয়া চিকিৎসায় সেরে ওঠতে পারে, কিন্তু অবস্থা খারাপ হতে থাকলে মেডিক্যালের সেবা নিতে হবে। এমনকি সার্জারিও করতে হতে পারে। গোড়ালির মচকানি নিয়ে মনে সন্দেহ থাকলে নিশ্চিত হতে হাসপাতালে এক্স-রে করতে পারেন। গোড়ালি মচকালে জয়েন্টের মধ্যে ও আশপাশে ব্যথা অনুভব হবে ও ফুলে যাবে। পরবর্তীতে কালশিটেও পড়তে পারে। মনে রাখবেন, গোড়ালি তীব্রভাবে মচকালে পায়ে ভার বহন অসম্ভব হতে পারে। এখানে গোড়ালি মচকানির প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হলো।

* পায়ের বিশ্রাম নিশ্চিত করুন: গোড়ালি মচকে গেলে আপনাকে সেই কাজ তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে যেকাজে উক্ত ইনজুরি হয়েছে। বসে পড়ুন ও গোড়ালিকে বিশ্রামে রাখুন। পায়ের ওপর ভার পড়ে এমন কাজ ভুলেও করা যাবে না, অন্যথায় লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। কাজে অথবা দুর্ঘটনায় যেভাবেই গোড়ালি মচকাক না কেন, আরো ক্ষতি এড়াতে বিশ্রামের বিকল্প নেই।

* বরফের সেঁক দিন: গোড়ালি মচকে যাওয়ার দুটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ হলো ব্যথা ও ফোলা। আপনার জন্য আশ্বস্তের খবর হলো, ঠান্ডা সেঁক দিয়ে ব্যথা ও ফোলা কমাতে পারবেন। বরফের টুকরো একটি ব্যাগে নিয়ে অথবা কাপড়ে মুড়িয়ে আক্রান্ত গোড়ালির ওপর ধরে রাখুন। এভাবে প্রায় ২০ মিনিট রাখুন। ব্যাগ বা কাপড় ছাড়া সরাসরি বরফ ব্যবহার করবেন না, অন্যথায় কোল্ড বার্ন হবে।

* কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ বেধে দিন: আক্রান্ত গোড়ালিতে ঠান্ডা সেঁক দেয়ার পর সেখানে ফোলার বৃদ্ধি প্রতিরোধে নরম কিছু (যেমন- তুলার রোল অথবা কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ) দিয়ে গোড়ালির চারপাশ বেধে নিতে পারেন। তুলার রোল বা কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ ব্যবহারে যে চাপ পড়ে তাতে ফোলা নিয়ন্ত্রণে থাকে। কেবল গোড়ালি নয়, পায়ের আঙুল থেকে হাঁটু পর্যন্ত কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ মুড়িয়ে নেয়া ভালো।

* গোড়ালিকে উঁচুতে রাখুন: আক্রান্ত গোড়ালিতে ফোলা প্রতিরোধের আরেকটি উপায় হলো- গোড়ালিটিকে নিতম্বের চেয়ে উঁচুতে রাখা। এই কাজে একটি বালিশ ব্যবহারই যথেষ্ট। আহত গোড়ালিকে বালিশের ওপর বিশ্রামে রাখার পরও আশঙ্কাজনক হারে ফোলা বাড়তে থাকলে হাসপাতালে যাওয়ার কথা ভাবুন। পায়ের ওপর ভর দেয়া অসম্ভব মনে হলেও দেরি না করে হাসপাতালের সেবা নিতে হবে।

* রক্তপ্রবাহের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন: আহত গোড়ালির ফোলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু বাধতে চাইলে খুব টাইট করবেন না। খুব টাইট করে তুলার রোল বা কম্প্রেশন ব্যান্ডেজ বাধলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হতে পারে। পায়ের একটি নখকে সাদা না হওয়া পর্যন্ত চেপে ধরুন। তারপর ছেড়ে দিন। নখটি দ্রুত আগের রঙে ফিরে আসলে ব্যান্ডেজ বাধা সঠিক হয়েছে। পূর্বের রঙে ফিরে আসতে দেরি হলে বুঝতে হবে খুব টাইট হয়েছে। এরকম হলে ব্যান্ডেজটি খুলে আবার বাধুন। প্রতি ১০ মিনিট পরপর চেক করুন।
* পুনরায় ঠান্ডা সেঁক দিন: গোড়ালি মচকানোর পর তৎক্ষণাৎ ঠান্ডা সেঁক দিয়েই কাজ শেষ হয়ে যায় না। এরপর প্রতি ২-৩ ঘণ্টায় ঠান্ডা সেঁকের প্রয়োজন রয়েছে। এসময় ব্যান্ডেজের ওপরেই সেঁক দিলে হবে। রাতে ব্যান্ডেজটি খুলে ফেলুন এবং গোড়ালির ওপর আইস প্যাক রেখে ঘুমাবেন না।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়