ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ১৪ মে ২০২৬ ||  বৈশাখ ৩১ ১৪৩৩ || ২৬ জিলকদ ১৪৪৭ হিজরি

Risingbd Online Bangla News Portal

লিভার দান করলে শরীর কী আগের মতো সুস্থ হতে পারে?

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩২, ১৪ মে ২০২৬   আপডেট: ০৯:৩৭, ১৪ মে ২০২৬
লিভার দান করলে শরীর কী আগের মতো সুস্থ হতে পারে?

ছবি: সংগৃহীত

লিভারের একটি অংশই অন্য মানুষের শরীরে পূর্ণ আকারের লিভারে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে দাতার নিজের লিভারও আবার পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠে। জীবিত ব্যক্তি লিভার দান ও প্রতিস্থাপন কীভাবে কাজ করে, তা এখানে তুলে ধরা হলো।

একজন জীবিত দাতার লিভারের একটি অংশ অপসারণ করে তা গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সুস্থ লিভারের একটি অংশই নতুন শরীরে পূর্ণ আকারের লিভারে পরিণত হতে সক্ষম। ফলে একজন সুস্থ মানুষের একটি লিভার দুইজনের জন্য কার্যকর দুটি লিভারে রূপ নিতে পারে।

আরো পড়ুন:

জীবিত লিভার দান কী?
অধিকাংশ অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গ আসে মৃত দাতার কাছ থেকে। তবে লিভার ব্যতিক্রম। লিভারই একমাত্র অঙ্গ যা নিজে নিজে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে। অর্থাৎ একজন জীবিত মানুষ তার সুস্থ লিভারের একটি অংশ অন্য কারও জীবন বাঁচাতে দান করতে পারেন।

জীবিত লিভার প্রতিস্থাপনে একই সময়ে দুটি অস্ত্রোপচার হয়—একটি দাতার জন্য এবং অন্যটি গ্রহীতার জন্য। দাতার লিভারের একটি অংশ কেটে নিয়ে তা সঙ্গে সঙ্গে গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। সফল প্রতিস্থাপনের পর কয়েক মাসের মধ্যেই উভয় অংশ পূর্ণ আকারে বেড়ে ওঠে।

জীবিত লিভার দানের শর্ত
জীবিত লিভার দাতা হতে হলে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হয়— বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে,  মাদক বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল ব্যবহারের ইতিহাস থাকা যাবে না এবং শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে। এ ছাড়া লিভার সম্পূর্ণ সুস্থ থাকতে হবে, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। 

কেউ চাইলে পরিচিত কাউকে লিভার দান করতে পারেন। একে বলা হয় ‘ডাইরেক্টেড ডোনেশন’। তবে রক্তের গ্রুপ ও লিভারের আকারের মিল থাকতে হবে।মিল না হলে ‘পেয়ার্ড এক্সচেঞ্জ’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্য দাতা-গ্রহীতার সঙ্গে বিনিময় করা যায়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘নন-ডাইরেক্টেড ডোনেশন’।

দাতা ও গ্রহীতার অস্ত্রোপচার একই সময়ে হয়। দাতার শরীর থেকে লিভারের নির্ধারিত অংশ কেটে নেওয়া হয় এবং তা সঙ্গে সঙ্গে গ্রহীতার শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচার সাধারণত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পুরো সময় রোগীকে জেনারেল অ্যানেসথেসিয়ার অধীনে রাখা হয়।

ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি:  ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করা হয়। এতে ব্যথা ও সেরে ওঠার সময় কম লাগে।

ওপেন সার্জারি: পেট কেটে বড় ছিদ্র করে অস্ত্রোপচার করা হয়।

একজন কি একাধিকবার লিভার দান করতে পারেন?
না। সাধারণত জীবনে একবারই লিভার দান করা যায়। কারণ, পুনরায় অস্ত্রোপচার করলে জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

লিভার দানের ঝুঁকি
যেকোনো বড় অস্ত্রোপচারের মতো এখানেও কিছু ঝুঁকি আছে—

  • রক্তপাত 
  • রক্ত জমাট বাঁধা 
  • সংক্রমণ 
  • স্নায়ু ক্ষতি 
  • নিউমোনিয়া 

কারও কারও ক্ষেত্রে লিভার বিকল হওয়ার সামান্য ঝুঁকিও থাকে। 

গবেষণা অনুযায়ী, জীবিত লিভার দাতার মৃত্যুঝুঁকি প্রায় ০.২ শতাংশ বা প্রতি ৫০০ জনে ১ জন।

গবেষণায় দেখা গেছে, অধিকাংশ জীবিত লিভার দাতার দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য স্বাভাবিক থাকে। তবে কিছু মানুষের মধ্যে ক্লান্তি, হজমজনিত সমস্যা বা মানসিক চাপ থাকতে পারে, যা সাধারণত সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়।

সুস্থ হতে কত সময় লাগে?
অস্ত্রোপচারের পর—প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হয়। ২–৩ মাসে লিভার পূর্ণ আকারে ফিরে আসে। এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত ফলোআপ করতে হয়।

সূত্র: ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিক

ঢাকা/লিপি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়