ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ফুটপাত: উচ্ছেদের পর ফের দখল

আহমদ নূর : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৯ ৮:২৯:০৮ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৯ ১২:২০:৫৭ পিএম

ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।  ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উচ্ছেদ অভিযান থেকে শুরু করে সচেতনতা তৈরি- কোনো কিছুই বাদ যায়নি।  এরপরও ফুটপাত  নতুন করে আবার দখল হয়ে যায়।  কোথাও এক দুইদিন পরই ভ্রাম‌্যমাণ দোকানে ভরে যায়।

নগরবাসীরা বলছেন, ফুটপাত উচ্ছেদের পর নিয়মিত ফলোআপ না থাকায় এর সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।  ফুটপাত ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাদের বিকল্প কোনো স্থানে না দিয়ে বার বার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করা হয়।  এ কারণে আর্থিক ও ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন তারা। জীবন চালাতে উচ্ছেদের পর আবারো ফুটপাতে ব্যবসায় নামেন।

ফুটপাতে দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে ডিএনসিসির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদ আনোয়ার জানান, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। একই কথা বলছেন ডিএসসিসির কর্মকর্তারাও।

দখল হয়ে আছে নগর ভবনের সামনে

বুধবার সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (নগর ভবন) বিপরীতে উসমানী উদ্যানের সামনে ফুটপাত দখল হয়ে আছে।  ফুটপাতের দুই পাশে পোশাক, পুরাতন মোবাইল, মোবাইল এক্সেসরিস, চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান। এ কারণে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার না করে সড়কের পাশ দিয়ে চলাফেরা করেন।

পথচারী আবু সালেহ রাইজিংবিডিকে বলেন, ঢাকার ফুটপাত দখল হয়ে আছে।  আগে সিটি করপোরেশন নিজেদের ঘর পরিস্কার করুক।  রাস্তায়  উন্নয়ন কাজ চলে।  একপাশ দখল করে আছে দোকান।  চলাফেরা করা যায় না। কিছু বললে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা উল্টো সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে তেড়ে আসে।

ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছেন কেন এমন প্রশ্নে নগর ভবনের সামনের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সংসার চালাইতে হইব, কেউ তো আর ফাও ফাও ঘরে চাউল দিয়া আইব না। ’

তার ভাষ্য, পথচারীদের সমস্যা হলেও সংসার চালাতে তারা ফুটপাতে ব্যবসা করতে হচ্ছে।  তবে হকারদের জন্য সিটি করপোরেশন বিকল্প কোনো ব্যবস্থা করে দিলে তারা এখানে বসবেন না।

কারওয়ান বাজার-ফার্মগেটের চিত্র

রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও ‍ফার্মগেটে প্রায়ই ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।  তবে অভিযানের পরপরই ফের দখল হয়ে যায় এই এলাকা।

বৃহস্পতিবার ফার্মগেট, তেজগাঁও কলেজ, হলিক্রস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, আনন্দ সিনেমা হলসহ বিপণী বিতানগুলোর সামন ঘুরে ফুটপাত দখল হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। কাঁচাবাজর, মাংসের দোকান, ভ্রাম্যমাণ ফাস্টফুড, কাপড়ের দোকানসহ হকারদের কারণে ফুটপাতে চলাচল করা যায় না।  অথচ অক্টোবর মাসে দুই দফা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ডিএনসিসি। 

পথচারীরা অভিযোগ করে বলেন, তেজগাঁও কলেজের সামনে বিভিন্ন এলাকা থেকে হিউম্যান হলারে করে মানুষ আসা-যাওয়া করেন।  এখানে স্ট্যান্ড থাকায় মোহাম্মদপুর, মিরপুর ও গাবতলী রুটের বাস এসে থামে। এছাড়া অনেকগুলো কোচিং সেন্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে থাকায় লোকসমাগম বেশি থাকে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা ফুটপাত দখল করে রাখায় চলাচলে নানান প্রতিবন্ধকা সৃষ্টি হয়।  মাঝে মধ্যে উচ্ছেদ করা হলেও অভিযানের পরই আবার দখল হয়ে যায়।

কারওয়ান বাজার এলাকার পাইকারী বাজার ও মূল সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে।  এছাড়া মালামাল পরিবহনের ভ্যানেও সড়কের অনেকাংশ দখল করে আছে। এই এলাকায় দুই দফা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসি।

পথচারী রাইসুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত দখল হওয়ায় ঠিক মতো চলাচল করা যায় না।

দখলের মহোৎসব গুলিস্তানে

বেশ কয়েকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেও গুলিস্তানের ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানেও সরাসরি বাধা দেন ব্যবসায়ীরা।

বুধবার ঘুরে দেখা গেছে, চিরচেনা রূপেই আছে গুলিস্তান। ফুটপাত থেকে শুরু করে সড়কের অর্ধেক সব দখল করে আছেন হকাররা।  হকারদের কোনো কোনো দোকানের দিকে তাকালে বুঝার উপায় নেই, এটা অস্থায়ী দোকান।

গুলিস্তানে ফুটপাত ও সড়ক দখল প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসসিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গেলেও সমস্যা।  রাজনৈতিক বাধাও আসে।  হকারদের ক্ষমতার কাছে পরাস্ত হতে হয়।

পল্টন-মতিঝিল: মেট্রোরেল ও ‍ফুটপাত বিড়ম্বনা

পল্টন থেকে মতিঝিল পর্যন্ত চলছে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। রাস্তা খুড়াখুড়ি, পিলার বসানোসহ আনুষাঙ্গিক কাজে রাস্তার অর্ধেক ব্যবহার অনুপযোগী।  যে কারণে গাড়ি চলে ধীর গতিতে।  লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। এই রুটে চলাচলকারীরা গাড়ির বদলে প্রায়ই পায়ে হেটে গন্তব্যে যান। তবে হকাররা ফুটপাত দখল করে রাখায় এ পথে চলাচল অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়।

পল্টনে কথা হয় পথচারী জাফর আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, এমনিতেই আস্তে আস্তে গাড়ি চলে।  তার ওপর ফুটপাত দখলে থাকলে মানুষ চলাচল করবে কীভাবে?

অভিজাত এলাকার ফুটপাতও দখলে

গুলশান-১ নম্বর থেকে গুদারঘাটের বিপরিতের ফুটপাত হয়ে লিংক রোডের দিকে এবং লেকপাড় রাস্তায় ফুটপাত দখল করে বসে দোকান। ফুটপাতে প্রতিদিন সন্ধ‌্যা হলেই কাপড়, ব্যাগ, মোবাইল যন্ত্রপাতি, কাঁচা বাজার, মাছের দোকান নিয়ে বসেন হকাররা। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় পথচারীরা অনেক সময় মূল রাস্তা ধরে হাঁটেন।

বেসরকারি চাকরিজীবী জুনায়েদুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য ফুটপাত তৈরি করা হয়েছে। অথচ আমরা এটা ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারি না।

 

ঢাকা/নূর/সাইফ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন