ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

অনলাইন ক্লাসে যাচ্ছে ঢাবি: যা ভাবছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৮ ৭:৫১:০১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-২৯ ১০:২৭:২০ এএম
প্রতীকী ছবি

চলতি বছরের জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে অনলাইনে ক্লাস নিতে যাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। তবে, শিক্ষার্থীদের সবাই এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে অনেকেরই। তারা বলছেন, বাসা-বাড়িতে এখনো অনলাইনে ভালোভাবে কথা বলা যায় না। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে ক্লাস করা যাবে কি না, সন্দেহ আছে।

বাসায় ঠিকমতো নেট পাওয়া যায় না বলে জানালেন আইয়ুব হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘মোবাইলফোনে প্রয়োজনীয় কথা বলতে মাঠে বা রাস্তায় যেতে হয়। অনলাইন ক্লাস কিভাবে করবো, বুঝতে পারছি না।’

তবে, ইন্টারনেট কারেকশনে সমস্যা নেই বলে জানালেন নুসরাত জাহান নামের আরেক শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘আমি ক্লাস করতে পারবো। কিন্তু বাকি সব শিক্ষার্থীর সেই সুযোগ রয়েছে কি না, তাও দেখতে হবে। সবার ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত না করে এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কঠিন হবে।’

অনলাইন ক্লাসকে জরুরি মনে করছেন শিক্ষার্থী মোনতাসির বিল্লাহ। তিনি বলেন, ‘গত মার্চ মাস থেকেই ক্লাস বন্ধ থাকায় সেশন জটে পড়েছি। এর থেকে বাঁচার উপায় অবশ্যই বের করা উচিত। তবে, সবাই এই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন কি না, তাও খেয়াল রাখতে হবে।’

জানতে চাইলে ঢাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘আমাদের দেশের আর্থ-সামাজিক বিবেচনায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। মেনে নিতে হবে। তবে, ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে অনলাইন কার্যক্রম থেকে দূরে থাকার সুযোগ নেই। অবশ্যই, এই প্ল্যাটফর্মে ক্লাস শুরু করা দরকার।’

জানতে চাইলে ‘জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি’র সদস্য অধ্যাপক ড. একরামুল কবীর বলেন, ‘সবার আর্থিক অবস্থা সমান নয়। অনেক শিক্ষার্থী প্রাইভেট টিউশনি করে চলেন। সবার পক্ষে এত টাকা খরচ করে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট চালানো বা ক্লাস করা সম্ভব হবে না।’

এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক ভুইয়া বলেন, ‘চ্যালেঞ্জিং। কারণ, সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট সাপোর্ট না পাওয়ায় শুরুতে সমস্যা তৈরি হবে। আশা করি, ধীরে ধীরে শিক্ষার্থীরা এই সমস্যা মোকাবিলা করতে পারবেন। এর মাধ্যমে ৬ মাসের সেশনজট ৩ মাস হলেও কমানো যাবে।’

অনলাইন ক্লাসকে এই সময়ের বড় চাহিদা বলে মনে করেন ঢাবির উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। তবে, যাই করি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয় করে করতে হবে। সব শিক্ষার্থীকে যদি সংযুক্ত করতে না পারি, তাহলে উদ্যোগ পুরোপুরি সফল হবে না। তবে, এও সত্য—এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা কিংবা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো নেওয়া সম্ভব হবে না।’

‘এই প্ল্যাটফর্মে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে’ উল্লেখ করে ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর গত মাস ধরেই শিক্ষকরা আংশিকভাবে বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারণ করেছি। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাকিদেরও ক্লাস নিতে বলা হয়েছে।’ এই প্ল্যাটফর্মে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা এবং  কম সময়ের মধ্যে  ক্লাস-পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। 


ইয়ামিন/এনই