RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

কঙ্কালটি কার?

মাকসুদুর রহমান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:২১, ২৮ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ২২:২৩, ২৮ অক্টোবর ২০২০
কঙ্কালটি কার?

গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেওড়াপাড়ার এক বাসার দেয়াল ভেঙে বের করা হয় একটি মানুষের কঙ্কাল। নিহতের পরিচয় জানতে ওই বাসার তিন ভাড়াটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। আশপাশের সব থানায় খোঁজ নিয়েও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এখন সবার প্রশ্ন—কঙ্কালটি কার?

মিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেছেন, ‘সিআইডি থেকে ডিএনএন রিপোর্ট পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এর পরেই বলা যাবে, কতদিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কঙ্কাল উদ্ধারের সময় একটি লম্বা চুল পাওয়া গেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি নারীর মাথার চুল। তার নাম পরিচয় জানতে শাহ আলী, পল্লবী, রূপনগর, কাফরুলসহ বিভিন্ন থানায় নিখোঁজের তালিকা ধরে অনুসন্ধান করা হয়েছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সিআইডিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কঙ্কালের নমুনা নিয়ে ডিএনএ প্রোফাইল করা হচ্ছে। একজন এএসপির নেতৃত্বে ওই নারীর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। কতদিন আগে তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে কাজ করা হচ্ছে।

মিরপুর থানা পুলিশ জানায়, সন্দেহ করা হচ্ছে, খুনি ক্ষোভের বশে ওই নারীকে হত‌্যা করে। হত্যার পর লাশ ভেতরে রেখে চায়ের পাতা দিয়ে ঢেকে প্লাস্টিক দিয়ে মুড়িয়ে ফেলে। এরপর তা দেয়ালে গেঁথে দেয়।

যে ফ্ল্যাটের দেয়াল থেকে কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়েছে, সে ফ্ল‌্যাটের ভাড়াটিয়া শ্যামল বলেন, ‘১০ মাস হলো এই ফ্ল্যাটে আছি। কিন্তু কখনো পচা লাশের গন্ধ পাইনি। এখন ভয় লাগছে। লাশটি এতদিন এখানে কীভাবে থাকলো, তা পুলিশকে অবশ্যই বের করা উচিত।’

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। প্রথমে বাড়িওয়ালা নিজেই নিচতলায় বাস করতেন। এরপরই গত ২৭ বছর ধরে তিনজন ভাড়াটিয়া সেখানে বাস করেছেন। প্রথমে আদম আলী নামে একজন ২০ বছর ছিলেন। নোমান নামে অপর ভাড়াটিয়া তিন মাস থাকেন। তাদের তথ্য নিয়ে কাজ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই মৃত নারীর পরিচয় জানা যাবে। তবে তাদের অবস্থান এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বাড়ির মালিক আব্দুল হালিম সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে বাস করছি। কিন্তু কোনো সময় পচা লাশের গন্ধ পাইনি।’

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আরও জানা গেছে, পশ্চিম শেওড়াপাড়ার ৩৮৯ নম্বর বাড়িটিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পানির সমস্যা দেখা দেয়। সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে একজন মিস্ত্রিকে ডেকে আনা হয়। সমস্যা কোথায় তা নিশ্চিত হতে তিনি দেয়াল খুঁড়তে শুরু করেন। একসময় নিচতলার স্টোর রুমের ফলস ছাদে কঙ্কাল দেখতে পান মিস্ত্রী। ১ অক্টোবর এ ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে।

ঢাকা/মাকসুদ/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়