ঢাকা     মঙ্গলবার   ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ||  আশ্বিন ১২ ১৪২৯ ||  ০১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

প্রকল্পের ব্যয়-মেয়াদ বাড়লেও ৩৪টি সারের গুদাম নির্মাণকাজ শেষ হয়নি

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:১০, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২  
প্রকল্পের ব্যয়-মেয়াদ বাড়লেও ৩৪টি সারের গুদাম নির্মাণকাজ শেষ হয়নি

সার সংরক্ষণ ও বিতরণের সুবিধার্থে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাফার গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ কেমিকাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২১ সালের জুন মেয়াদে এসব গুদাম নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, এখন পর্যন্ত ১০টি গুদামের জায়গা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেরি হওয়ার পাশাপাশি ৪৮৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয় বেড়েছে।

সূত্র জানায়, প্রকল্পটি আগে ১ হাজার ৯৮৩ কোটি ৪ লাখ টাকায় বাস্তবায়নের জন্য একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। এরপর শিল্প মন্ত্রণালয় প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ায়। বর্তমানে প্রকল্পের ব্যয় ২৪.৩৩ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ৪৬৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা হয়েছে। মেয়াদও ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো—দেশে সারের মজুদ সুনিশ্চিত ও দ্রুত প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সার পৌঁছানোর জন্য দেশে আরও ৩৪টি বাফার গোডাউন নির্মাণ করা। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধনীর ওপর সুপারিশ নেওয়ার জন্য সম্প্রতি একটি সভা হয়েছে।

সভা সূত্রে জানা যায়, সভায় বিসিআইসির চেয়ারম্যান জানান যে, শুরু থেকে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত ব্যয় ২২২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা প্রকল্প ব্যয়ের ১১.২১ শতাংশ এবং এর বাস্তব অগ্রগতি ১৮.১৫ শতাংশ। প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার জটিলতা, প্রস্তাবিত জমির মধ্যে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকা, রেলওয়ের জমি, খাস জমি ও নদী শ্রেণির জমি থাকা, রাস্তা সংক্রান্ত জটিলতা, পরিবেশ ছাড়পত্র প্রাপ্তিতে বিলম্ব, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কর্তৃক স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব, করোনাকালীন সাধারণ ছুটি এবং লকডাউনের কারণে জমি অধিগ্রহণ তথা প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৩৪টির মধ্যে ২৪টি গোডাউনের জন্য জমি পাওয়া গেছে। বাকি জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।

সভায় পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের উপ-প্রধান সভাকে জানান, প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়াকরণ সংক্রান্ত পরিপত্র অনুসারে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার ৩ মাস আগে সংশোধন প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠাতে হয়। কিন্তু, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের জুনে শেষ হওয়ার প্রায় ২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর সংশোধিত ডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে, যা অনভিপ্রেত।

তিনি বলেন, প্রকল্পের অগ্রগতি সংক্রান্ত উপস্থাপনা থেকে দেখ যায়, ৬টি জমির অধিগ্রহণ ২০১৯ ও ২০২২ সালের মধ্যে এবং ১০টি জমির অধিগ্রহণ ২০১১ সালের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু, টেন্ডার আহ্বান করা সম্ভব হয়নি। ফলে, প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় উভয়ই বৃদ্ধি পেয়েছে।

সভার সভাপতি বলেন, যেহেতু ২০১৮ সাল থেকে ৪ বছরেও জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রমই সম্পন্ন হয়নি এবং বাকি ১০টি গুদামের জন্য জমি কবে পাওয়া যাবে তাও সুনির্দিষ্ট নয়। সেহেতু প্রল্পটি শুধুমাত্র প্রাপ্ত ২৪টি জায়গায় গুদাম নির্মাণের জন্য সুনির্দিষ্ট রেখে ডিপিপি পুনর্গঠন করলে ব্যয় সংকোচন করা সম্ভব হবে। এতে প্রকল্পের বাস্তবায়নও ত্বরান্বিত হবে।

সভার সভাপতির সঙ্গে একমত পোষণ করেন আইএমইডি’র মহাপরিচালক। তিনি ৩ মাসের মধ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করে বাকি ১০টি জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দেন। অন্যথায় যে ১০টি জমি পাওয়া যায়নি, সেগুলো ডিপিপি থেকে বাদ দিয়ে ডিপিপি সংশোধন করা সমীচীন বলে মনে করেন। পরবর্তী পর্যায়ে বাকি ১০টি গুদাম নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

সভায় কার্যক্রম বিভাগের উপ-প্রধান বলেন, প্রকল্পটি ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর্থিক সংকুলানের বিষয়টি বিবেচনা করে প্রল্পটির ব্যয় ৪৮২ কোটি টাকা বৃদ্ধি না করে পর্যায়ক্রমে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যেতে পারে।

তিনি পরামর্শক, ভূমি অধিগ্রহণ ও ফার্নিচার বাবদ ব্যয় প্রাক্কলন যৌক্তিকভাবে হ্রাস করা ও কম্পিউটার সরঞ্জমাদি বাবদ ব্যয় প্রাক্কলন বাদ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এ বিষয়ে সভায় উপস্থিত সবাই মত দেন বলে সূত্র জানায়।

তবে, বিসিসিআইর চেয়ারম্যান সভায় ধারণক্ষমতার বিস্তারিত এবং প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে ৩৪টি গুদাম নির্মাণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিন মাসের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে বাকি ১০টি জমি অধিগ্রহণ নিষ্পত্তির কথা তুলে ধরেন।

সূত্র জানায়, অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি মাথায় রেখে প্রকল্পের ব্যয় কমানোর জন্য অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কাটছাঁট করে ৩৪টি গুদাম নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, তিন মাসের মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করে বাকি ১০টি গুদামের জমি অধিগ্রহণ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

হাসনাত/রফিক

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়