ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

অনলাইনে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশু বিক্রি

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৩৫, ৩১ জুলাই ২০২০  
অনলাইনে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশু বিক্রি

এ বছর অনলাইনে রেকর্ড সংখ্যক কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছে। বিভিন্ন মাধ্যম মিলে প্রায় ২৭ হাজার গরু-ছাগল ও অন্যান্য কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। অনলাইন থেকে ছবি দেখে কৃষকের বাড়িতে বা খামারে এসে গরু কেনার পরিমাণ বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তিন থেকে চারগুণ বেশি হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ও ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব ) এক যৌথ অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। ঢাকা উত্তর কর্পোরেশন এবং ই-ক্যাবের কোরবানির পশু বিক্রির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ডিজিটাল হাট’ (www.digitalhaat.net) ও সারাদেশে অনলাইনে গরু ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।   

সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপস্থাপন করে জানানো হয়, সারাদেশে এখন পর্যন্ত ২৭ হাজার কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি হয়েছে। ডিজিটাল হাট, ডিজিটাল হাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত মার্চেন্ট ও ই-ক্যাব মেম্বারদের অনলাইনে বিক্রিত গরু, ছাগল ও ভেড়ার সংখ্যা ৬ হাজার ৮শ। জেলাভিত্তিক সরকারি প্ল্যাটফর্মে কমপক্ষে ৫ হাজার ৫শ গরু-ছাগল বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী জেলা এগিয়ে রয়েছে। এই জেলায় সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পশু বিক্রি হয়েছে ৫১৭টি। বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যভুক্ত কোম্পানির অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে বিক্রিত পশু ৯ হাজার ৫শ’র কাছাকাছি। বিচ্ছিন্ন অন্যান্য প্ল্যাটফর্ম  থেকে ৫ শতাধিক গরু বিক্রির ধারণা পাওয়া গেছে। সরকারি প্ল্যাটফর্ম ফুড ফর ন্যাশন ৪০০০ গরু বিক্রি ট্র্যাক করতে পেরেছে। এভাবে পুরো অনলাইন বাজারে প্রত্যক্ষ বিক্রিত পশুর সংখ্যা বের করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, আরো লাখখানেক কোরবানি পশু পরোক্ষভাবে এ বছর বিভিন্নভাবে অনলাইন শপ থেকে বিক্রি করা হয়েছে। অন্তত পাঁচ লাখ গরু ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রদর্শিত হয়েছে। 

ডিজিটাল হাট সম্পর্কে ডিএনসিসির মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে গিয়ে ডিএনসিসি, আইসিটি ডিভিশন ই-ক্যাব, আইএসএসএল, ধানসিঁড়ি ও সাদিক এগ্রোর সম্মিলিত টিমকে রাতদিন পরিশ্রম করতে হয়েছে। নানা ধরনের জটিল ইস্যু ছিল। এগুলো তারা আন্তরিকতার সঙ্গে সমাধান করেছে। ৪শ গরু স্লটারিং করার ব্যবস্থাপনা আমি নিজে তদারক করছি। ঈদের দিন স্লটারিং হাউজে গিয়ে স্বশরীরে পুরো ব্যাপারটা আমি দেখভাল করব।’

নগরবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে মেয়র বলেন, তারা যেন যেখানে সেখানে গরু জবাই না করেন এবং গরুর বর্জ্য অপসারণে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ঈদের ছুটির মধ্যে ১১ হাজার কর্মী তৎপর থাকবে।

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে মেয়র বলেন, আমাদের এই উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত খুশি হয়েছেন। গরু জবাই করে মাংস ৪ কেজির প্যাকেটে করে বাসায় পাঠিয়ে দেয়ার এই প্রচেষ্টাকে প্রধানমন্ত্রী সাধুবাদ জানিয়েছেন। মেয়র ডিজিটাল হাটের সঙ্গে সম্পৃক্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আইসিটি মন্ত্রণালয়, প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, ই-ক্যাব, ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশন, দারাজ, নগদ, মাস্টারকার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ঈদের দিন আমরা স্লটারিং সেবা দিতে যাচ্ছি। ক্রেতাদের সুবিধা এবং উদ্যোক্তাদের সুবিধা দুটোই আমাদের দেখতে হয়েছে। শুধুমাত্র ডিজিটাল হাট প্ল্যাটফর্মকে ঘিরে এবার অনলাইনে নতুন অনেক উদ্যোক্তাও তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্ম অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ইমরান হোসেন বলেন, এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ধাপে ধাপে মান বজায় রাখতে হয়েছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যবস্থায় ক্রেতাদের অভ্যস্ত করার জন্য তাদের সন্তুষ্টিকে আমরা প্রাধান্য দিয়েছি। কারণ তারা নতুন এই প্ল্যাটফর্মের ওপর আস্থা রেখেছেন।

ই-ক্যাবের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, পুরো প্রক্রিয়াকে সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি ধাপে আমাদেরকে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। সঠিক গরু এসেছে কিনা? ওজন ঠিক আছে কিনা? গরুর কোনো রোগ আছে কিনা? ক্রেতা বা খামারিরা পেমেন্ট পেলে কিনা? প্রতিটি ধাপে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে আমাদের এগিয়ে যেতে হয়েছে।

এটুআই এর হেড অব ই-কমার্স রেজওয়ানুল হক জামি বলেন, এত অল্প সময়ের মধ্যে এরকম একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে সেখানে শ’খানেক উদ্যোক্তাকে সংযুক্ত করে দেশব্যাপী সচেতনতা সৃষ্টি করে ২৭ হাজার গরু অনলাইনের মাধ্যমে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়ার এই কাজ ই-কমার্সের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আজকের ডিল এর সিইও ফাহিম মাশরুর বলেন, করোনা মহামারি পরিস্থিতিতে এ ধরনের উদ্যোগ সবার জন্য সুফল নিয়ে এসেছে। এখানে বিক্রির সংখ্যার চেয়ে ক্রেতাদের আস্থাটাই বড়ো কথা। ভবিষ্যতে এই আস্থা আরো বৃদ্ধি পাবে।

রেইন ফরেস্ট এর সিইও জাহিদুজ্জামান সাইদ বলেন, আমরা প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকের গরু অনলাইনের মাধ্যমে দূরের বা শহরের ক্রেতার কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি। এটাই এই উদ্যোগের সবচেয়ে ভালো দিক। প্রযুক্তি হাজারে গ্রামীণ খামারিকেও এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত করে দিয়েছে।

ডেলিভারি পার্টনার ই-কুরিয়ারের সিইও বিপ্লব রাহুল বলেন, গরু জবাই হওয়ার মাংস প্যাকিং হওয়ার আমরা ২ ঘণ্টার মধ্যে ক্রেতাদের ঠিকানায় পৌঁছে দেব। আমাদের গাড়িতে আইসবক্স থাকবে যেন মাংস ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, ঈদের দিন থেকে তিন দিন ধরে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন স্লটারিং হাউজে চলবে গরু জবাই, মাংস কাটা, ভুড়ি পরিষ্কার  ও ৪ কেজি করে প্যাকিং করে ক্রেতাদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার কাজ। নগরবাসীর ঈদকে স্বার্থক করতে কাজ করবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শত শত কর্মী।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়